পদ্মায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় শিবচরের বন্দরখোলা ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গবাদিপশু ও পরিবারের লোকজন নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে উঠে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে বানভাসিদের। পানিতে তলীয়ে গেছে সড়ক, ব্রিজ-কালর্ভাটসহ স্কুল-কলেজ ও হাট-বাজার। পানিতে আটকা পড়ে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন চরাঞ্চলের বন্যার্ত পরিবারগুলো। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরীর নির্দেশে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন। প্রায় প্রতিদিনই চরাঞ্চলে পানিবন্দী ও আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া বানভাসিদের ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন নেতৃবৃন্দরা।
পদ্মা নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় শিবচরের পদ্মা নদীর চরাঞ্চলের তিন ইউনিয়নসহ মোট ৮ ইউনিয়ন বন্যাকবলিত নদী ভাঙ্গন এলাকা বন্যার ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিন শতাধিক ঘরবাড়ি কোনমতে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বিস্তীর্ণ জনপদসহ আক্রান্ত হয়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, সড়ক ব্যবস্থাও। ভয়াবহ ভাঙ্গন ঝুঁকিতে রয়েছে একাধিক স্কুল ভবন, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, কমিউনিটি ক্লিনিক, বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এদিকে চরাঞ্চলের ৫ ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে বাড়ি ঘরে পানি ঢুকায় অনেকেই আশ্রয় কেন্দ্র আশ্রয় নিয়েছে।
শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. সেলিম মিয়া জানান, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও আমাদের স্থানীয় সংসদ সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরীর নির্দেশনা অনুযায়ী শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগ শিবচরে বন্যার্ত ও বানভাসি মানুষের পাশে থাকবে। তাদের যেন কোন রকম সমস্যা না হয় সে ব্যাপারে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।
জানা যায়, শিবচরের চরাঞ্চলের প্রায় সবাই কৃষি নির্ভর ও দিনমজুর। পদ্মার পানি বেড়ে গিয়ে চরাঞ্চলের ৫টি ইউনিয়ন সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়ে গেছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। উপজেলা প্রশাসনের ঘোষিত আশ্রয় কেন্দ্র চরাঞ্চলের ৯টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে উঠেছে এসব বন্যার্ত মানুষ। রবিবার সকাল থেকে চরাঞ্চলের ৯টি আশ্রয় কেন্দ্রের প্রায় ৩ শতাধিক বানভাসি বন্যার্তদের মাঝে চাল,ডাল,তেল,আলু, প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিনি, মুড়ি, চিড়াসহ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগ। এই ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. সেলিম মিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রশান্ত কুমার রাহা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ কে এম নাসিরুল হক, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও তিন ইউনিয়নের সেক্টর কমান্ডার খায়রুজ্জামান খান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ী ফজলুল হক মুন্সী,বন্দরখোলা ইউনিয়ন পরিষদের একাধিকবার সফল চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন বেপারীসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দরা।