কথায় বলে, ‘বিপদ যখন আসে তখন চারিদিক দিয়া আসে।’ ইহা শুধু কথার কথাই নহে, বাস্তবেও দেখা যায় একটি সমস্যা অথবা বিপদের সঙ্গে জড়াইয়া আরো একটি সমস্যা সম্মুখে আসিয়া দাঁড়ায়। ধরা যাউক পণ্য পরিবহনের বর্তমান অচলাবস্থার কথাই। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত সংবাদ হইতে জানা গিয়াছে, প্রবল বৃষ্টিপাতে যমুনা ও পদ্মা নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পাইয়াছে, যাহার ফলে ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হইতেছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটের জন্য মোট ১৮টি ছোট-বড় ফেরি থাকিলেও বর্তমানে ১৩টি ফেরি প্রবল স্রোতের কারণে অতি মন্থর গতিতে চলিতেছে। প্রতিটি ফেরি পারাপারে স্বাভাবিক সময়ের চাইতে দ্বিগুণ সময় প্রয়োজন হইতেছে। ফলে ঘাটের দুই পারে পণ্যবোঝাই শত শত ট্রাককে দিনের পর দিন অপেক্ষা করিতে হইতেছে। ইহাতে পণ্য সরবরাহে, বিশেষ করিয়া প্রয়োজনীয় খাদ্য নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর কাজ ঝুঁকির মধ্যে পড়িয়াছে। এই ঘাট দিয়া বিপুল পরিমাণ কাঁচা দ্রব্যও পারাপার হইয়া থাকে। স্বাভাবিক সময়ে ঘাট দিয়া সহস্রাধিক ভারী গাড়ি পার হইলেও বর্তমানে মাত্র দুই শতাধিক গাড়ি পারাপার সম্ভব হইতেছে। ইহার ফলে বেশ কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে বিশেষ সংকট তৈরি হইয়াছে। ধরা যাউক, কোনো একটি জেলা হইতে ঢাকায় আসিবে কাঁচা কলা, বেগুন, ঢ্যাঁড়শ, উচ্ছে অথবা পটোল। এই সকল সবজি বাংলাদেশের মানুষের নিত্যদিনের খাবার তালিকার অংশ। কিন্তু এই সকল পণ্য একাধিক দিন ঘাটে পড়িয়া থাকিলে একদিকে ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়িবেন, অন্যদিকে বাজারে সবজির ঘাটতি দেখা দিবে। বিশেষ করিয়া রাজধানী ঢাকায় সবজির ঘাটতি দেখা দিলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়াও অস্বাভাবিক নহে। এমনিতেই দেশের অধিকাংশ এলাকার মানুষ কোমরপানিতে অবস্থান করিতেছে, তাহার উপর করোনা ভাইরাসের কারণে মন্থর হইয়াছে বাণিজ্যিক যোগাযোগ। স্বভাবতই সাপ্লাই কমিয়া গিয়াছে। এই বিড়ম্বনা মানুষের খাদ্যাভ্যাসের উপর চাপ ফেলিতে পারে। ইহা আরো একটি দুশ্চিন্তার কারণ বটে।
তবে ঘাট কর্তৃপক্ষ পরিশ্রম করিলে এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিলে এই বিড়ম্বনা কিছুটা লাঘব হইতে পারে। যেমন পচনশীল পণ্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা, বর্তমানে যেই সকল ফেরি মেরামতের জন্য রহিয়াছে সেইগুলিতে দ্রুত মেরামত করিয়া যোগাযোগ-সেবায় নিয়োজিত করা। সামনেই ঈদুল আজহা। এই সময় সাধারণত অন্য সময়ের চাইতে পণ্য পারাপারে অধিক চাপ পড়িয়া থাকে। সেই কথা মাথায় রাখিয়া ফেরি মেরামতে আগেই হাত দেওয়া উচিত ছিল। আমরা জানি, ফেরিগুলির বয়স হইয়াছে। এইগুলি নিয়মিত মেরামত করিতে হয়। এই সময় দেশের সবচাইতে ব্যস্ত ঘাটের একাধিক ফেরি মেরামতের জন্য ভাসমান কারখানায় পড়িয়া থাকা মোটেই কাম্য নহে। অন্যদিকে ঘাটের দুই পাড়ে যে সহস্রাধিক পণ্যবাহী ট্রাক রহিয়াছে, তাহা বিশৃঙ্খলভাবে অবস্থান করিয়া থাকে। এই ট্রাকগুলিকে সারিবদ্ধভাবে রাখাও ঘাট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।