সংযোগ সড়কে মাটি নেই
মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গলিয়ারচর-ছান্দ্রা সড়কের গলিয়ারচর খালের ওপর নির্মিত সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কে মাটি নেই। সেতুটিতে ওঠার জন্য দুই পাশে স্থাপন করা হয়েছে বাঁশের সাঁকো। দীর্ঘদিন ধরে এই বেহাল সেতু দিয়ে ঐ উপজেলার জিংলাতলী ইউনিয়নের অন্তত তিনটি গ্রামের নানা শ্রেণি পেশার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। তাদের চলাচলের একমাত্র ভরসা ঐ সেতুটি অবিলম্বে ভেঙে পুনঃনির্মাণের জন্য এলাকার লোকজন দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, চার দশকেরও অধিক বছর আগে খালের ওপর নির্মিত ঐ সেতুটির দৈর্ঘ্য ৪০ মিটার ও প্রস্থ পাঁচ মিটার। সেতুটির রেলিং ভেঙে গেছে। সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কে মাটি নেই। সেতুটিতে ওঠার জন্য দুই পাশে বাঁশের সাঁকো স্থাপন করা হয়েছে। এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে স্থানীয় লোকজন ঝুঁকি নিয়ে সেতু পারাপার হচ্ছেন। সেতুটি দিয়ে চররায়পুর, চরচারিপাড়া, গলিয়ারচর গ্রামসহ আশপাশের প্রায় ৪ হাজার মানুষ চলাচল করে। চররায়পুর গ্রামের আবু তালেব, আবদুল্লাহ আল-মামুন ও ব্যবসায়ী-কৃষকসহ এলাকার নানা পেশার অন্তত ১৮ জনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, ‘গলিয়ারচর গ্রামের দক্ষিণ পাশে বিস্তীর্ণ দুটি ফসলের মাঠ রয়েছে। ঐ সেতুটি ব্যবহার করেই মাঠের কৃষিপণ্য বাড়িতে আনতে হয়। এ সেতু ছাড়া চলাচলের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। সেতুর সংযোগ সড়কের মাটি সরে গেছে। তাই জনগণ সেতুতে ওঠার জন্য নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো স্থাপন করেছে এবং সাঁকোটি ব্যবহার করে সেতু পার হতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। জনগণের দুর্ভোগ নিরসনের জন্য এখানে নতুন একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।’ গলিয়ারচর গ্রামের নবম শ্রেণির ছাত্রী মাহমুদা খানম, অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আবির আহমেদ জানায়, ‘স্কুলে যাওয়া-আসার জন্য এই সেতুটি একমাত্র ভরসা। ঝড়-বৃষ্টির সময় সাঁকো পার হয়ে সেতুতে ওঠতে খুবই ভয় লাগে। পা পিছলে কেউ সাঁকো থেকে পড়ে গেলে হাত-পা ভেঙে যাবে।’ জিংলাতলী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, ‘গলিয়ারচর-ছান্দ্রা সড়কটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মিলিত হয়েছে। জনগণের যাতায়াতের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এই সড়কের সেতুটির দুই পার্শ্বের সংযোগ সড়কে মাটি না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে এলাকার লোকজনকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। তাই এই সেতুটি পুনঃনির্মাণের জন্য চেষ্টা করছি।’ দাউদকান্দি উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মোহাম্মদ আহসান আলী জানান, ‘প্রায় ৪২ বছর আগে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে এই সেতু দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। সহসা ঐ খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।’