করোনার বন্ধে কাজ হারিয়েছে ১ কোটি ৬ লাখ মানুষ

বিলেসর ওয়েবিনার

ইত্তেফাক রিপোর্ট

করোনা পরিস্থিতিতে দেশব্যাপী দুই মাসের বেশি সময় সরকারি ছুটির আওতায় দেশের সার্বিক কার্যক্রম প্রায় বন্ধ ছিল। এই সময়ে ১ কোটি ৫ লাখ ৬০ হাজার মানুষ কাজ হারিয়েছে। এর আগে আরো প্রায় ৩০ লাখ মানুষ কর্মহীন ছিল। সব মিলিয়ে বন্ধের সময় কর্মহীন মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৩৬ লাখ। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিল্স) এক অনলাইন সেমিনারে (ওয়েবিনার) গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে এ তথ্য জানানো হয়।  কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ওপর প্রভাব শীর্ষক ঐ ওয়েবিনারে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) জেনেভা অফিসের সাবেক উপদেষ্টা রিজোয়ান ইসলাম।

করোনার প্রকোপ বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত মার্চের ২৬ তারিখ থেকে দেশব্যাপী সরকারি ছুটির আওতায় জরুরি সেবা ছাড়া অর্থনৈতিক কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। দুই মাসের বেশি সময় সরকারি ছুটি থাকার পর এখন ধীরে ধীরে সচল হচ্ছে অর্থনীতি। তবে এই সময়ে বিপুলসংখ্যক কর্মী কাজ হারিয়েছেন। বিলসের হিসাবে, সবচেয়ে বেশি কাজ হারিয়েছে স্বকর্মসংস্থানে নিয়োজিত শ্রমশক্তি। এ খাতের ৬০ লাখ ৫০ হাজার শ্রমশক্তির ৮৫ শতাংশই এই সময়ে কাজ হারিয়েছেন। যার সংখ্যা ৫১ লাখ ৯০ হাজার। এছাড়া নির্মাণ খাতে ২৭ লাখ ৫০ হাজার, পরিবহন খাতে ৬ লাখ ৫০ হাজার, বাণিজ্যিক খাতে ৯ লাখ, খাদ্য ও এ সম্পর্কিত খাতে ১ লাখ ৭০ হাজার এবং উত্পাদন খাতে কাজ হারিয়েছেন  ৯ লাখ। সব মিলিয়ে বন্ধের সময় নতুন করে কাজ হারানো মানুষের সংখ্য ১ কোটি ৫ লাখ ৬০ হাজার। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি ২০২০ সালে বছর ৬ কোটি ৭৫ লাখ থেকে ৬ কোটি ৯০ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ কর্মহীন হতে পারে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, কেবল আর্থিক সাহায্য দিয়ে মানুষকে দীর্ঘ মেয়াদে টিকিয়ে রাখা যাবে না। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। সরকারকে এদিকে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন তারা। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা পরিষদের (বিআইডিএস) সিনিয়র গবেষণা পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, সরকারের প্রণোদনার অর্থ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য পাওয়া কঠিন। এ ধরনের উদ্যোক্তাদের বিকাশ, নগদ বা এ জাতীয় মোবাইল ব্যাংকিং পদ্ধতিতে তাদের সহায়তা করার পরামর্শ দিয়েছেন। এমনকি গার্মেন্টস খাতের যেসব ছোট উদ্যোক্তা রয়েছেন, তাদেরও ঋণ সুবিধা সহজ করার পরামর্শ দেন তিনি।

শ্রম আইন বিশেষজ্ঞ ড. উত্তম কুমার দাস করোনার মতো এ ধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বলেন, বিদ্যমান শ্রম আইন প্রস্তুত নয়। তার প্রমাণ পাওয়া গেছে সরকারের ছুটির পর কারখানা বন্ধ, লে অফ কিংবা শ্রমিক ছাঁটাই ও তাদের পাওনা পরিশোধ ইস্যুতে। শ্রম মন্ত্রণালয়ও যথাযথ ভূমিকা নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পুটিআইনেন বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাস্তবধর্মী শ্রম বাজার নীতি প্রণয়নের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, যারা কাজ হারিয়েছে, তারা কীভাবে কাজে ফিরতে পারে—সে বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া দরকার। এ লক্ষ্যে সরকার শ্রমঘন অবকাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

বিলেসর মহাসচিব নজরুল ইসলাম খানের সঞ্চালনায় এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য শিরীন আখতার, বিজিএমইএর পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন, এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের মহাসচিব ফারুক আহমেদ, অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন প্রমুখ।