কচুয়া (চাঁদপুর) সংবাদদাতা
ঠিকাদারি কাজে অনিয়ম করার অভিযোগে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশিরের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন চাঁদপুর শিক্ষা প্রকৌশলী বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী নূূরে আলম ও ঠিকাদার রনি। লাঞ্ছিত প্রকৌশলী ও ঠিকাদার উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় জনগণের রোষানলে পড়ে পালিয়ে যায় ঘটনাস্থল থেকে। গত রবিবার উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন কচুয়া শহীদ স্মৃতি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ছয় তলা ভবনের প্রথম তলার কাজ শেষে দ্বিতীয় তলার কাজের জন্য পাথরসহ বিভিন্ন মালামাল পরিদর্শনে এলে কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই এই ঘটনা ঘটে।
পরে ঐ দিন রাতে সহকারী প্রকৌশলী নূূরে আলম বাদী হয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির ও তার সঙ্গে থাকা ইমাম হোসেন এবং জহিরুল ইসলামের নামে ও ১০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে কচুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপায়ন দাস শুভ শিক্ষা প্রকৌশলী বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী নূূরে আলম ও ঠিকাদারের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। ঠিকাদারের অনিয়মের বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে ঠিকাদার রনির মোবাইল ফোনে বার বার কল করেও পাওয়া যায়নি।
উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির বলেন, চাঁদপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কনটেম্পোরি অ্যান্ড অনন্ত ট্রেডার্স (জে.বি) নির্মাণ কাজে ব্যবহূত পাথর, বালু, ইট কোনোটিই মানসম্পন্ন দেয়নি। প্রকৌশলীর তদারকি ছাড়াই নির্মাণ শ্রমিকদের দিয়ে অনুমানের ওপর ভিত্তি করে ছয় তলা ভবনের কাজ হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, শুরু থেকেই ঠিকাদার এ ভবনে নিম্নমানের কাজ করে যাচ্ছেন এমন অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নূরজাহান বেগম। ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ঐ ভবন হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার আমি বিদ্যালয় নির্মাণকাজ পরিদর্শন করি এবং নির্মাণকাজে নিয়োজিত স্থানীয় প্রতিনিধি ইসমাইল হোসেনকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেই। তারই পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার চাঁদপুর শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী নূূরে আলম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপায়ন দাস শুভ ঠিকাদারের চলমান কাজ পরিদর্শন করতে গেলে আমি খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হই। উপস্থিত ঠিকাদার ও প্রকৌশলীকে কাজের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তারা কোনো সঠিক উত্তর দিতে পারেনি। স্থানীয় জনগণ উত্তেজিত হয়ে ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর ওপর চড়াও হলে আমি তা প্রতিহত করার চেষ্টা করি।
এদিকে, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপায়ন দাস শুভকে নিয়ে জনৈক গাজী হাসান রানা তার ফেসবুকে অশোভনীয় উক্তি করে গত রবিবার একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। গতকাল সোমবার এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। স্ট্যাটাস দেওয়ায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে গতকাল কচুয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।