উজিরপুর (বরিশাল) সংবাদদাতা
বরিশালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে উজিরপুর আলিম মাদ্রাসায় পৌনে তিন কোটি টাকায় চার তলা একাডেমিক ভবনের এক তলা শেষ হতে না হতেই হুমকির মুখে ঐ ভবনটি। এক তলার ছাদ ঢালাইয়ের এক সপ্তাহের মধ্যে সেন্টারিংয়ের মালামাল খুলে ফেলায় ধসে পড়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। নিম্নমানের বালি, খোয়া ও রড ব্যবহারেরও অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর এসসিজেভি লি. নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সুমন আহমেদ নামের একজন ঠিকাদার এই ভবনের কাজটি পান। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য মো. শাহে আলম ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কিছুদিন পরে ঐ ভবনের কাজ শুরু করেন সাব কন্ট্রাক্টর মোতালেব হোসেন। গত ৯ জুলাই ঐ ভবনের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ করার মাত্র আট দিন পরে গত শুক্রবার ভবনের সেন্টারিংয়ের মালামাল খুলে ফেলা হয়। বিষয়টি দেখে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. নুরুল হক আজাহারী ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কামাল হোসেন সবুজ রাজ মিস্ত্রিদের সেন্টারিং খুলতে নিষেধ করেন। ততক্ষণে পুরো বারান্দার সেন্টারিং খোলা শেষ করে তারা দ্বিতীয় তলার সেন্টারিং করা শুরু করে। তবে বাধার মুখে পুনরায় গত শনিবার খুলে ফেলা সেন্টারিংয়ের কিছু কিছু মালামাল সংযুক্ত করে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরিশাল জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বিষয়টি শুনে ঐ ভবনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী সালমান আহমেদকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।’ তবে প্রকৌশলী সালমান আহমেদকে বারবার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ঠিকাদার সুমন আহমেদ জানান, ‘রাজমিস্ত্রিরা ভুল করে কাজটি করে ফেলেছে।’ ভুলের কথা স্বীকার করেন প্রধান রাজমিস্ত্রি রুবেলও। মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কামাল হোসেন সবুজ জানান, ‘আগে সেন্টারিং খুলে ফেলায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রনতি বিশ্বাস জানান,‘দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’