দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য তাসমিমা হোসেন বলেছেন, স্থানীয় সামাজিক শাসন ব্যবস্থায় রক্ষক ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলে তখন দরিদ্র জনগোষ্ঠী স্বাভাবিকভাবেই তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুধা এবং দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়তে যে বরাদ্দ স্থানীয় সরকারকে দেন তা চেয়ারম্যান-মেম্ব্বারদের মধ্যে ভাগবাঁটোয়ার মতো ঘটনা আজ পত্রিকা খুললেই হরহামেশা দেখা যায়। সরকারের বরাদ্দ লুটপাট করে এক শ্রেণির মানুষ বড়লোক হচ্ছে আর দরিদ্ররা দরিদ্রই থেকে যাচ্ছে। বিশুদ্ধ পানি পানের জন্য সরকার থেকে টিউবওয়েল দেওয়া হয়েছে। দেখা গেছে, কোথাও একই বাড়ি দুই-তিনটি আবার যেখানে প্রয়োজন সেখানে দেওয়া হয়নি। কেউ পাবে, কেউ পাবে না—এ প্রবণতা মেনে নেওয়া যায় না।
গতকাল সোমবার সকালে বেসরকারি সামাজিক উন্নয়নমূলক সংগঠন দুস্থ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি, পিরোজপুর-২ আসনের (ভাণ্ডারিয়া-কাউখালী) সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিশিষ্ট নারী সংগঠক তাসমিমা হোসেন তার ভাণ্ডারিয়াস্থ বাসভবন তাসমিমা ভিলায় উপজেলার ৫ নম্বর ধাওয়া ইউনিয়নের ‘দুস্থ নেত্রী’দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন।
এখানে তিনি আরো বলেন, সমাজ দুর্নীতিবাজে ভরে গেছে, এদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন। স্থানীয় নেতাদের এ দুর্নীতির দায় স্থানীয় সংসদ সদস্যেরও কাঁধে বর্তায়। গ্রামীণ নারীদের ভাগ্য পরিবর্তনে আমি ২৬ বছর ধরে এ এলাকা সংগঠিত করেছিলাম। কিছু দুর্নীতিবাজের কারণে আজ তা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই বিচ্ছিন্ন অবস্থা থেকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায়ে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ করে নারী সংগঠন করার সুন্দর একটি রোডম্যাপ করে দেওয়া হয়। যাতে তৃণমূল থেকেই ঐ সংগঠনের মাধ্যমে সংবাদ সংগ্রহ করে তাদের মাধ্যমেই তার সমাধান দেওয়া যায়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে জয়বাংলা স্লোগানে জাতীয় পার্টি-জেপি উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবে। মানুষ মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা-সম্মান দেখায় না। শ্রেণি ভেদে সম্মান প্রদর্শনের শিক্ষা এবং রীতিনীতি পরিবার থেকে অর্জন করতে হয়। বর্তমান সমাজের শাসন ব্যবস্থায় বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করে তরুণ নেত্রীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। স্থানীয় বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে রক্ষা পেতে এবং নারীদের সুরক্ষায় থাকতে সকলের স্ব স্ব অবস্থান থেকে সকলের সত্পথে চলা, সাদাকে সাদা বলা, কালোকে কালো বলা এবং স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতার সামাজিক সংস্কৃতি থাকা উচিত।
সভায় তাসমিমা হোসেন উপস্থিত নেত্রীদের পৃথক পৃথক বক্তব্য শোনেন। পরে তাদের উদ্দেশে আরো বলেন, বর্তমানে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে মানুষ গৃহবন্দি অবস্থায় বসবাস করছে। প্রকৃতি দূষণের কারণে মানুষের দেহে রোগ-ব্যাধি জন্মায়। শরীর-মন সুস্থ রাখতে নিজ বাড়িতে রাসায়নিক সার, কীটনাশক মুক্ত শাকসবজি চাষ, হাঁস, মুরগি, গবাদি পশু পালন করে বিষমুক্ত খাবার খাওয়া গেলে শরীর ভালো থাকে। আত্মনির্ভরশীল বা স্বনির্ভরতার ক্ষেত্রে তরুণ নেত্রীদের বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করে সংগঠনের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে নিজেদের অধিকার অর্জন করা সম্ভব। এ সময় তিনি উপস্থিত নেত্রীদের সুসংগঠিত হওয়ার জন্য এলাকাভিত্তিক সংগঠন করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
এ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সংস্থার প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাজী আতাহার হোসেন, নারী নেত্রী ও পিরোজপুর জেলা পরিষদের নারী সদস্য রোকেয়া বেগম, ধাওয়া সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য শাহানাজ পারভিন, খুশী বেগম, নূপুর বেগম, জাহানারা বেগম, হাসিনা বেগম, পান্না বেগম, মাহফুজা আক্তার, আমিরুন্নেছা, জুলেখা বেগম, আভারানীসহ ধাওয়া ইউনিয়নের নেত্রীরা।