গতকাল সোমবার রাত ও সকালের বৃষ্টিতে ডুবে গেছে রাজধানীর বেশির ভাগ সড়ক। বিভিন্ন এলাকায় দেখা দেয় তীব্র জলাবদ্ধতা। এতে কর্মব্যস্ত নগরবাসী চলাচলে অন্তহীন দুর্ভোগের শিকার হন। পানি অপসারণের ড্রেনগুলো সচল না থাকায় জলাবদ্ধতা তীব্র হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সেবা সংস্থার অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়িও দুর্ভোগ আরো বাড়িয়েছে। এতে যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টিতে নগরীর ধানমন্ডি ২৭, সংসদ ভবন এলাকা, লালমাটিয়া, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, সেনপাড়া, তেজকুনিপাড়া, তেজতরিবাজার, মিরপুর ১০ থেকে ১৪ নম্বর, তেজগাঁও, সাতরাস্তা মোড়, কাওরান বাজার, রাজারবাগ পুলিশ লাইনের উত্তর গেট, নয়াপল্টন, পুরান ঢাকার বঙ্গবাজার এলাকা, সিদ্দিক বাজার মোড়, নাজিরা বাজার, নাজিম উদ্দিন রোড, গ্রিন রোড, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, শুক্রাবাদ, রামপুরা, মালিবাগ ও খিলক্ষেতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা। কোথাও কোথাও ইঞ্জিনে পানি ঢুকে যানবাহনও বিকল হতে দেখা গেছে। রাস্তায় পানি জমায় মানুষ গাড়িতে উঠ?তে কিংবা ফুটপাত দিয়েও হাঁটতে পারছে না। এছাড়া বিভিন্ন বাসা-বাড়িতেও পানি উঠেছে বলে জানা গেছে। বৃষ্টিতে কোনো কোনো এলাকা যেন নদীতে পরিণত হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দেয়। এতে ট্রাফিক পুলিশকেও চরম ভোগান্তি সহ্য করতে হয়।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হবে। তবে তিন-চার দিন পর এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। আজ রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। গতকাল সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুরে ১৯৫ মিলিমিটার; রাজারহাটে ১৪৫ মিলিমিটার; সৈয়দপুরে ১১০ মিলিমিটার; টাঙ্গাইলে ১০৮ মিলিমিটার; দিনাজপুরে ১০০ মিলিমিটার; তেঁতুলিয়ায় ৮২ মিলিমিটার; সন্দ্বীপে ৮০ মিলিমিটার; রাজশাহীতে ৭৭ মিলিমিটার; নেত্রকোনায় ৭৩ মিলিমিটার; ফরিদপুরে ৫১ মিলিমিটার ও ঢাকায় ১৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়।