রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন করেছেন বলে অভিযোগ পেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এজন্য সাহেদের এনআইডি কার্ড ব্লক করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর।
সোমবার নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান। সচিব আরো বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে জাতীয় সংসদের শূন্য আসনগুলোতে এই মুহূর্তে ভোটগ্রহণ করবে না ইসি। পাবনা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে আগস্টের মধ্য বা শেষ সপ্তাহে কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধন প্রসঙ্গে ইসির সিনিয়র সচিব বলেন, সাহেদ বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সনদ দিয়ে এনআইডি সংশোধন করেছেন। আমরা ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে দেখব তার ও লেভেলের সার্টিফিকেট সত্য কী না। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সংশোধিত এনআইডি বাতিল করা হবে। মামলাও দায়ের করা হবে। আমরা এরই মধ্যে এ ধরনের ঘটনায় অনেকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি। অনেকে শাস্তিও পেয়েছেন।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, সাহেদের জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম ছিল সাহেদ করিম। পরবর্তীকালে তিনি এটি সংশোধন করে ‘মোহাম্মদ সাহেদ’ হয়ে যান। প্রথমে তার জন্ম সাল ছিল ২ জুন ১৯৭৮। পরবর্তীকালে তিনি সেটা ১৯৭৫ সালের ২ জুলাই করে নেন। সংশোধনের স্বপক্ষে তিনি ও-লেভেলের কাগজপত্র দাখিল করেন। যদিও প্রথমে তিনি সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ দেখিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, আমাদের মাঠ পর্যায়ের কেউ হয়তো সহায়তা করতে পারে। তিনি তো ‘মহাপ্রতারক’ আপনারাই বলছেন। কাজেই যে কোনো প্রতারণার আশ্রয় তিনি নিতে পারেন। আমাদের কেউ যদি তার জালিয়াতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে, তবে তার বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।