প্রত্যন্ত গ্রামে ঘরের মেঝের নিচে গোপন টর্চার সেল!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বিশারাবাড়ী গ্রামে ভাতিজাকে জিম্মি করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করতে গিয়ে আবিষ্কৃত হলো চাচার ঘরে মেঝের নিচে বিশাল কক্ষে গোপন টর্চার সেল। গত রবিবার গভীর রাতে ঐ টর্চার সেল থেকে ১৮ খুনের পলাতক আসামি সোহরাব খান সৌরভ (২৫) নামে সিরিয়াল কিলারকে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে জিম্মি থাকা ভাতিজা মোস্তাক মিয়াকে। তবে চাচা ইমরান মিয়া পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে কসবা থানায় তিন জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।

গ্রামবাসী ও থানায় অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিশারাবাড়ী গ্রামের মৃত ফজুলর রহমানের ছেলে কসবা বাজারের ব্যবসায়ী মোস্তাক মিয়া গত রবিবার রাত সাড়ে ১০টায় দোকান বন্ধ করে বাড়িতে যাওয়ার সময় চাচা ইমরান মিয়া তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক নিজের ঘরে নিয়ে যায়। পরে ঐ ঘরে থাকা ভাড়াটিয়া খুনি সৌরভের সহযোগিতায় মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে ও কালো কাপড়ে চোখ বেঁধে ঘরের নিচে গোপন টর্চার সেলে নিয়ে যায়। সেখানে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে তাকে মারধর করা হয় এবং ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন চাচা ইমরান মিয়া। টাকা না দিলে তাকে খুন করা হবে বলেও হুমকি দেন।               এদিকে মোস্তাক বাড়িতে না আসায় তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে বাড়ির লোকজন। এক পর্যায়ে ইমরানের ঘরেও তল্লাশি করতে আসে মোস্তাকের পরিবারের লোকজন। টর্চার সেল থেকে মোস্তাক চিত্কার দিলে মহল্লার মানুষ ঘরটি ঘেরাও করে তাকে উদ্ধার করে। এ সময় ইমরান পালিয়ে যায়। গ্রামের মানুষের কাছ থেকে খবর পেয়ে রাত ১১টায় পুলিশ এসে ঘরের ভেতর বাংকারে অভিযান চালিয়ে সৌরভকে আটক করে। পরে সেখান থেকে ছুরি, চাইনিজ কুড়াল ও ইলেক্ট্রিক্যাল নানা ধরনের যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়।

অপহূত ব্যবসায়ী মোস্তাক আহাম্মদ বলেন, টর্চার সেলে নিয়ে তার গলায় ছুরি ধরে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ইমরান ও সৌরভ। টাকা না দিলে খুন করে ফেলার হুমকি দেয়। কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ লোকমান হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় ইমরান হোসেনকে প্রধান আসামি করে তিন জনের নামে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির মামলা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।