রিজেন্ট হাসপাতালে অনিয়ম

দুদকে নথিপত্র দিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চুক্তিপত্রসহ অন্যান্য নথিপত্র দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ে জমা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম দুদকের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে উপপরিচালক ও রিজেন্ট দুর্নীতির অনুসন্ধান কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিকীর কাছে নথিপত্র জমা দেন।

এ ব্যাপারে দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত জানান, রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি সংবলিত তথ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এখন কমিশন কর্মকর্তারা সেগুলো পর্যালোচনা করে দেখবেন পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এর আগে গত ররিবার দুদক অনুসন্ধান টিম রিজেন্ট হাসপাতালের তথ্য আনতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যান। তখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, সোমবার সকল নথিপত্র ও তথ্য দুদকে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। সে অনুযায়ী দুদকে তথ্য পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

দুদক সূত্র জানায়, গত ১৩ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতাল ও এর চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট প্রদান, করোনা চিকিত্সায় প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাত্ এবং অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করার সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এ জন্য তিন সদস্যের একটি দলও গঠন করা হয়। ইতিমধ্যে সাহেদ ও তার আটটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে নানা ধরনের তথ্য সংগ্রহ করেছে দুদক।

উল্লেখ্য, গত বুধবার রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম ওরফে মো. সাহেদকে সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার করে র?্যাব। বর্তমানে রিমান্ডে আছেন। এর আগে গত ৬ জুলাই উত্তরায় রিজেন্ট হাসপাতালে র?্যাবের অভিযানে সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি করোনা রোগীর নমুনা পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। শুধু তাই নয়, হাসপাতাল দুটি ছয় বছরেরও বেশি সময় লাইসেন্স নবায়ন না করেই পরিচালিত হয়ে আসছিল। নানা অভিযোগে উত্তরা ও মিরপুরের দুটি শাখাই সিলগালা করে দেওয়া হয়।