তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন এন্ড ট্রান্সমিশন কোং লি. এর গ্যাস লাইনের পাইপ ফেটে (ছিদ্র হয়ে) প্রতি নিয়ত গ্যাস বের হচ্ছে। গত তিন বছর ধরে গ্যাস লাইনের পাইপ দিয়ে গ্যাস বের হলেও কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকায় নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক যাতায়াত ও যানবাহন চলাচল করছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চলের হাঁটুভাঙ্গা এলাকায় মহাসড়কের উপর গ্যাস বের হওয়ার এমন ঘটনা ঘটেছে। আজ সোমবার ঘটনাস্থল ঘুরে মহাসড়ক ভেদ করে পাইপ দিয়ে গ্যাস বের হওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ব্যস্ততম ও জাতীয় একটি মহাসড়ক। বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পর মহাসড়কের গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। উত্তরাঞ্চলের ২২ টি জেলাসহ টাঙ্গাইল, জামালপুর ও শেরপুর জেলার ১৩৫ টি রোডের যানবাহন চলাচল করে আসছে। গত ৫ বছর পূর্বে গাজীপুরের ভোগড়া থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা ও বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ফোর লাইন উন্নীত করনের কাজ শুরু হয়। মহাসড়ক দিয়ে উত্তরালের তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন লাইন নেওয়া হলে মহাসড়ক ফোর নাইন কাজের সময় গ্যাস লাইনের কয়েকটি স্থানে পাইপ ফেটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গোড়াই শিল্পাঞ্চলের সোহাগপাড়া, মির্জাপুর উপজেলা সদরের মসজিদ সংলগ্ন, ক্যাডেট কলেজ ও হাঁটুভাঙ্গা বাস স্টেশনের গোড়াই হাইওয়ে থানা সংলগ্ন গ্যাস লাইনের ক্ষতিগ্রস্ত পাইপ দিয়ে মহাসড়ক ভেদ করে দিন রাত গ্যাস বের হচ্ছে। মহাসড়কের উপর হাট বাজার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত তিন বছর ধরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকায় বুদবুদ করে গ্যাস বের হওয়ায় আতংক ছড়িয়ে পরেছে। গ্যাস বের হওয়ায় মানব দেহের জন্য যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি সরকারের বিপুল পরিমাণ গ্যাস অপচয় হচ্ছে। যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু বলেন, গোড়াই মূলত একটি শিল্পাঞ্চল। ছোট বড় মিলে অর্ধশতাধিক করাখানায় ৫০ হাজার শ্রমিক নিয়মিত যাতায়াত করেন এই মহাসড়ক দিয়ে। এছাড়া হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে আসছে। গ্যাসের লাইন দিয়ে গ্যাস বের হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ৫০ হাজার শ্রমিক চলাচল করেছেন। যে কোন সময় গ্যাস থেকে আগুন লেগে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনার আশংকা করা হচ্ছে। এলাকাবাসি বিষয়টির দিকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করলেও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ আজ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
এ ব্যাপারে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোং লি. এর টাঙ্গাইল জোনাল অফিসের ম্যানেজার মো. সুরুজ আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মির্জাপুরের গোড়াইতে পাইপ দিয়ে গ্যাস বের হচ্ছে এমন অভিযোগ আসার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন (অপারেশন) বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপারেশন বিভাগ এখন পর্যন্ত কোন রিপোর্ট দেয়নি। দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য গ্যাস লাইন দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
ইত্তেফাক/এসআই