মির্জাপুরে কোরবানির পশু নিয়ে দেড় শতাধিক খামারি চরম বিপাকে

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মহামারি করোনা এবং বন্যায় কোরবানির পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন দেড় শতাধিক খামারি ও বেপারিরা। করোনার প্রভাবে বাজারে ক্রেতা না পাওয়ায় কোরবানির পশু নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে। এক দিকে করোনার প্রকোপ, অন্য দিকে বন্যার পানি দিন দিন বৃদ্ধির কারণে পশু নিয়ে বেপারি এবং খামারিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (২১জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খামারিদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা এবং এমন চিত্রই পাওয়া গেছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানায়, মির্জাপুরে পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নে ছোট-বড় মিলে ১৫০টি মতো গরুর খামার রয়েছে। কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে এসব খামারি ও বেপারিরা দেশীয় ও ক্রস প্রজাতির গরু মোটা তাজা করে আসছেন। 

উপজেলার বাইমহাটি গ্রামের গরুর খামারি নজরুল ও তার ভাই সুজন জানান, তাদের খামারে ছোট-বড় ও মাঝারি সাইজের ২০ টি গরু রয়েছে। কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ব্যাংক ঋণসহ বিভিন্ন ধারদেনা করে গরু মোটা তাজা করেছেন বিক্রি করবেন বলে। মহামারি করোনা এবং সম্প্রতি বন্যার কারণে খামারে ক্রেতা আসছেন না। ক্রেতার অভাবে গরু বিক্রি করতে পারছেন না। তাদের লাখ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হবে বলে জানান। নজরুল ও সুজনের মত অনেক খামারিই এমন কথা জানান।  

আরও পড়ুন: অজানা রোগ: হারিয়েছেন স্বামী-সন্তান, আরেক ছেলে মৃত্যুর পথে 

মঙ্গলবার দেওহাটা পশুর পশুর হাটে কোরবানির পশু বিক্রি করতে এসেছিলেন টাঙ্গাইলের বেপারি মো. রফিকুল ইসলাম মিয়া। তিনটি গরুর মধ্যে একটি গরু চালান দামে বিক্রি করেছেন। দুইটি গরু বিক্রি করতে না পেরে ফেরত নিয়ে যাচ্ছেন। ভুয়াপুর থেকে খামারি লতিফ মিয়া ৮ টি গরু নিয়ে এসেছেন বিক্রি করার জন্য। দেওহাটা পশুর হাটে এসে দেখতে পান যে গরুর জন্য খরচ হয়েছে ৭০-৮০ হাজার টাকা। সেই গরুর দাম ক্রেতারা দাম করছেন ৬০-৬৫ হাজার টাকা। গত বছর দেওহাটা কোরবানি পশুর হাটে যে গরু বিক্রি হয়েছে ৯০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা, এ বছর সেই একই সাইজের গরুর দাম হচ্ছে ৭৫ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। দেওহাটা ও তক্তারচালা পশুর হাটে খোঁজ-খবর নিয়ে দেখা গেছে, ছোট সাইজের একটি দেশীয় ষাঁড় ৪০-৫০ হাজার টাকা, মধ্যম সাইজের একটি ষাঁড় ৫৫-৭০ হাজার টাকা এবং বড় সাইজের একটি ষাঁড় এক লাখ থেকে দেড় টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছাগল ছোট সাইজের ৫-৬ হাজার টাকা, মধ্যম ৭-১২ হাজার টাকা এবং বড় সাইজের ছাগল বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ হাজার টাকায়। এছাড়া মহিষ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ হাজার টাকায়।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সাইফুদ্দিন সুজন জানিয়েছেন, এ বছর মির্জাপুর উপজেলার দেড় শতাধিক খামারে দেশীয় ও ক্রস প্রজাতির প্রচুর গরু মোটা তাজা করেছেন বেপারি ও কৃষকরা। করোনা এবং বন্যার কারণে হাট বাজারে ক্রেতা না পাওয়ায় খামারি ও বেপারিরা গরু নিয়ে দুচিন্তায় পড়েছেন।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে খামারি, কৃষক এবং বেপারিদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হচ্ছে হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

ইত্তেফাক/এএএম