মেহেন্দিগঞ্জে মেঘনা ও শাখা নদীর ভাঙন
মেহেন্দিগঞ্জ (বরিশাল) সংবাদদাতা
মেহেন্দিগঞ্জে মেঘনা ও শাখা নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় ৩০০ বাড়ি ও বহু ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন হুমকিতে রয়েছে বিভিন্ন ইউনিয়নের তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। চলতি বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে পানি নেমে আসায় মেঘনা, গজারিয়া, তেতুলিয়া, ইলিশা নদীর তীরবর্তী এলাকায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। অব্যাহত ভাঙনে যে কোনো মুহূর্তে বিলীন হয়ে যেতে পারে মধ্য দড়িরচর খাজুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। হুমকিতে রয়েছে শ্রীপুর ইউনিয়নের চরবগি চৌধুরী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাহেরচর শ্রীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও।
সবচেয়ে বেশি নদী ভাঙনের শিকার হচ্ছে মেহেন্দিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের রুকুন্দি ও সাদেকপুর গ্রাম। এখানে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে কোনো না কোনো বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। এছাড়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন, চরগোপালপুর, গোবিন্দপুর, শ্রীপুর ও দড়িরচর খাজুরিয়া ইউনিয়নে নদীর অব্যাহত ভাঙনে হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। জাঙ্গালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের ফরাজী জানান, নদী ভাঙনের ফলে তার এলাকার বেশ কয়েকটি দোকানপাট ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শাহাদাত হোসেন জানান, ভাঙনের ফলে মধ্য দড়িরচর খাজুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শ্রীপুর ইউনিয়নের চরবগি চৌধুরী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাহেরচর শ্রীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হুমকির মধ্যে রয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিজুস চন্দ্র দে জানান, উজানের পানি নেমে আসায় নদীতে ব্যাপক স্রোতের কারণে মেহেন্দিগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই দড়িরচর খাজুরিয়া ইউনিয়নের মধ্য দড়িরচর খাজুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নিলামের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার উপজেলার আলীমাবাদ, শ্রীপুর, জাঙ্গালিয়া ও চরগোপালপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য পংকজ দেবনাথ। তিনি বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকায় জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ভাঙন প্রতিরোধে আরো সরকারি বরাদ্দের চেষ্টা চলছে। বরাদ্দ পেলে নদী ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।