স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
বগুড়া জেলায় চলতি বছর দুই দফা বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এসব ফসলের মধ্যে রয়েছে পাট, আউশ ধান, আমন বীজতলা ও শাকসবজি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এখন পর্যন্ত সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বগুড়া জেলায় ৭৬ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতির প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। এর মধ্যে শুধু সারিয়াকান্দি উপজেলাতেই বন্যায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে ৬৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকার। এর বাইরে সোনাতলা উপজেলায় প্রায় ১০ কোটি টাকার এবং ধুনট উপজেলায় প্রায় ১ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট লোকজনের দেওয়া তথ্য মতে, উজানের ঢলে যমুনায় অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত এক মাসে দুই দফা বন্যায় ৮ হাজার ৮৩১ হেক্টর ফসল পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। যমুনা ও বাঙ্গালী নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে গেছে ৮ হাজার ৮৩১ হেক্টর জমির রোপা আউশ, পাট, বীজতলা, শাকসবজিসহ নানা জাতের ফসল। বন্যায় ফসল হারিয়ে দিশাহারা ৪৭ হাজার কৃষক পরিবার। বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার হাটশেরপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া চরের কৃষক নুরন্নবী সরকার বলেন, সপ্তাহ দুই একের মধ্যে খেতের পাট কেটে জাগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উজানের ঢলে অস্বাভাবিক পানি বেড়ে যাওয়ায় খেত তলিয়ে তার স্বপ্ন ভেঙে গেছে। খাটিয়ামারি চরের কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, তার ১০ বিঘা খেতের পাট এক মাস ধরে যমুনার পানিতে নিমজ্জিত। পচে গেছে পুরো খেত। তাদের মতো জেলার অনেক কৃষকই ফসল হারিয়ে এখন দিশেহারা। সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল হালিম বলেন, উপজেলায় ২৪ হাজার ৫০০ হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে এ মুহূর্তে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে নানা জাতের ফসল রয়েছে। যমুনা ও বাঙ্গালী নদীর ঢলে প্রায় এক মাস ধরে নিমজ্জিত রয়েছে ৬ হাজার ২৩৭ হেক্টর জমির ফসল। বন্যায় এখন পর্যন্ত ফসলের ক্ষতি ৬৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের সংখ্যা ৩৬ হাজার ৭৮০। সোনাতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ আহমেদ বলেন, প্রথম দফা বন্যায় ৯১৩ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ মুশিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় প্রথম দফা বন্যায় ২৫১ হেক্টর জমি নিমজ্জিত হয়েছে। এর বাইরে দ্বিতীয় দফা বন্যায়ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ২ হাজারের ওপরে।