ওয়েবিনারে বিশেজ্ঞদের অভিমত
ইত্তেফাক রিপোর্ট
করোনা থেকে দ্রুত অর্থনীততে স্বাভাবিক গতি আনতে হলে নীতিকাঠামোর কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক সংস্কার প্রয়োজন বলে অভিমত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, যে ধরনের সংস্কার দরকার, তা এখনো দেখা যাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার পিছিয়ে যেতে পারে। গতকাল মঙ্গলবার করোনা-পরবর্তী সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক অনলাইন সেমিনারে (ওয়েবিনার) তারা এসব মতামত তুলে ধরেন। অক্সফোর্ড পলিসি ম্যানেজমেন্ট ও পলিসি এক্সচেঞ্জ যৌথভাবে ঐ ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন। পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজের সঞ্চালনায় এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অক্সফোর্ড পলিসি ম্যানেজমেন্টের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্টিভান লি।
আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, করোনা পরিস্থিতি সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হলে দ্রুত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার (ভি শেপ) সম্ভব হবে না। সংস্কারে মনোযোগ দেওয়া দরকার। করোনা-পরবর্তী উত্তরণ নির্ভর করবে আমরা কতটা সঠিকভাবে সংস্কার করতে পারছি তার ওপর। কিন্তু সেদিকে যথাযথ মনোযোগ নেই। সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হানও একই মতামত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে যথাযথ সংস্কার করা না গেলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ধীরগতিতে হবে।
এ সময় বক্তারা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য বাস্তবধর্মী চিন্তা করার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে পরীক্ষার বিবেচনায় করোনা সংক্রমণের হার বেশি হওয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) চেয়ারম্যান ও ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম খান বর্তমান বাস্তবতায় সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বেসরকারীকরণের ওপর তাগিদ দেন।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আসতে হলে কার্যকর কিছু করতে হবে। সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে। অন্যথায় কেবল তাদের আসতে বললে প্রত্যাশিত ফল আসবে না।
অবশ্য আলোচনায় অংশ নিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, প্রবাসী আয়সহ সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরেন। চলতি অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের প্রাক্কলনের সঙ্গেও দ্বিমত প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকারের প্রাক্কলিত প্রবৃদ্ধি (জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২ শতাংশ) অর্জন কিংবা কাছাকাছি হবে। এছাড়া কিছু অনিয়ম সরকার কঠোরভাবে দমন করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা পরিষদের (বিআইডিএস) সিনিয়র গবেষণা পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ, অক্সফোর্ড পলিসি ম্যানেজমেন্টের কান্ট্রি ম্যানেজার জোস চিপম্যান, অর্থর্ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আজিজুল আলম, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহীম প্রমুখ।