সাহেদসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা করবে দুদক

এনআরবি ব্যাংক থেকে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ও এনআরবি ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার কমিশনের অনুসন্ধান কর্মকর্তার প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে এ মামলার সিদ্ধান্ত নেয়। শিগিগরই দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সিরাজুল হক বাদী হয়ে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যাল-১-এ মামলাটি দায়ের করবেন বলে দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন।

মামলায় যে চার জনকে আসামি করা হচ্ছে তারা হলেন—রিজেন্ট হাসপাতালের স্বত্বাধিকারী ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইব্রাহিম খলিল, এনআরবি ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার মো. সোহানুর রহমান ও ভাইস  প্রেসিডেন্ট ওয়াহিদ বিন আহমেদ।

অনুমোদিত মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গ করে এনআরবি ব্যাংক লিমিটেড থেকে ২০১৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সুদসহ ১ কোটি ৫১ লাখ ৮১ হাজার ৩৬৫ টাকা আত্মসাত্ করেন।

দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ ২০১৪ সালের ১৭ নভেম্বর এনআরবি ব্যাংকে একটি চলতি হিসাব চালু করেন। ঐ সময় ব্যাংকটি তার কাছ থেকে কোনো টাকা জমা গ্রহণ করেনি। অন্যদিকে হিসাব খোলার এক দিন পূর্বেই, মানে ১৬ নভেম্বর এনআরবি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াহিদ বিন আহমেদ ও প্রিন্সিপাল অফিসার সোহানুর রহমান উভয়ে এসএমই ব্যাংকিং ঋণ মঞ্জুরির জন্য সুপারিশ পাঠান। অথচ ঋণ মঞ্জুরির পূর্ব পর্যন্ত উক্ত হিসাবে কোনো লেনদেন ছিল না। মো. সাহেদের হাসপাতাল ব্যবসার পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। অন্য কোনো ব্যাংকে বা অন্য কোনো ব্যবসায় মো. সাহেদের কী ধরনের বিনিয়োগ/লেনদেন ছিল, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য সংগ্রহ করা হয়নি। ঋণের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত জামানত গ্রহণ করা হয়নি। ঋণ বিতরণের আগে বা পরে যথাযথ তদারক করা হয়নি।  গ্রাহকের ব্যাবসায়িক সুনাম, ঐতিহ্য, অভিজ্ঞতা যাচাই করা হয়নি। ঋণ মঞ্জুরিপত্রের শর্তানুযায়ী নির্ধারিত সময়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা হয়নি। তবে মো. সাহেদ ঋণ মঞ্জুরিপত্রের শর্তানুযায়ী এফডিআর করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ঋণ গ্রহীতা সাহেদ ঋণ পরিশোধ না করায় ব্যাংক কর্তৃক তার উক্ত এফডিআর ক্লোজ করে ঋণ সমন্বয় করেন। এতে দেখা যায়, মো. সাহেদ স্বেচ্ছায় কখনো ঋণের টাকা পরিশোধ করেননি। তিনি অসত্ উদ্দেশ্যে ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের জন্য ঋণ গ্রহণ করেছিলেন।