ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক

নেতাদের লাভের জন্য সম্পর্ক নষ্ট হলে লজ্জার

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিব শঙ্কর মেনন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রসঙ্গে বলেছেন, নেতাদের লাভের জন্য সম্পর্ক নষ্ট হলে সেটা হবে লজ্জার। গতকাল কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত এক সাক্ষাত্কারে তিনি এই মন্তব্য করেন। সাক্ষাত্কারটি গ্রহণ করেছেন পত্রিকাটির সাংবাদিক অগ্নি রায়।

অগ্নি রায়ের প্রশ্ন ছিল-এনআরসি নিয়ে ভারতের ভূমিকায় ঢাকা দৃশ্যতই অসন্তুষ্ট। বিশেষ করে একজন প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিশেষ মন্তব্য (বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারীরা উইপোকা) নিয়ে। আপনি কীভাবে দেখছেন? জবাবে শিব শঙ্কর মেনন বলেন, যেভাবে এই গোটা বিষয়টিকে তুলে ধরা হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে এই নিয়ে বিতর্কের সময়ে এবং সিএএ-এনআরসির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সময় যা যা বলা এবং করা হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং সংবাদমাধ্যমে তাদের অসন্তোষ ব্যক্ত করেছেন। ভারতের বিভিন্ন সরকার ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে যে ঘনিষ্ঠ এবং গঠনমূলক সহযোগিতার কাঠামো তৈরি করেছে, তা যদি প্রভাবশালী ভারতীয় নেতাদের আঞ্চলিক রাজনৈতিক লাভের জন্য দেওয়া বিবৃতিতে নষ্ট হয়ে যায়, তবে তা লজ্জার।

অগ্নি রায়ের আরেকটি প্রশ্ন ছিল—গত এক দশক ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের সবরকম উদ্যোগ সত্ত্বেও তিস্তার পানি গড়াচ্ছে না ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে। আপনি একসময় নিজে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন জট ছাড়ানোর জন্য। কোথায় সমস্যা থেকে যাচ্ছে? এর উত্তরে শিব শঙ্কর মেনন বলেন, মানুষের মনে যাই থাক, প্রাকৃতিক কারণে তিস্তা বয়েই চলবে! তবে এটি ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে একটি বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার কারণ আমরা দুপক্ষই তিস্তার পানির অধিকার চাইছি কিন্তু নদীতে মোট কতটা পানি থাকছে তা নিয়ে আমরা একমত নই। বিষয়টি নিয়ে যুক্তিপূর্ণভাবে আলোচনার জন্য আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম, ১৫ বছরের অন্তর্বর্তী চুক্তি করতে, যাতে উভয় পক্ষ একসঙ্গে যৌথভাবে পানির স্রোত মাপতে পারে এবং ৫০ শতাংশ পানি ব্যারাজে থাকে। অন্যভাবে বলা যায়, পানির ভাগাভাগি না করেও ঐ চুক্তির মাধ্যমে যেরকমই স্রোত থাক বাংলাদেশকে পানি দেওয়া—যখন স্রোত বেশি থাকবে, তখন বেশি, যখন স্রোত কম থাকবে তখন কম পানি পাবে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে আমাদের পানির ব্যবহারকেও স্বীকৃতি দেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই চুক্তিতে রাজি হয়েও শেষ মুহূর্তে নিজেদের মন পরিবর্তন করে। এই কারণেই কোনো চুক্তি করা সম্ভব হলো না। এসবের ফলে পানি বয়ে চলেছে ঠিকই কিন্তু আমরা ঐকমত্যের ধারেকাছে পৌঁছাতে পারছি না। সাক্ষাত্কারে বর্তমানে ভারত-চীন সম্পর্কের বিষয়টিও উঠে আসে।