চেয়ারে বেঁধে দুই শিশু সন্তানকে নির্যাতনের ভিডিও মাকে পাঠাল পাষণ্ড বাবা!

ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় ধানহাড়িয়া গ্রামের মাদকসেবী স্বামীর অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে দুই শিশু পুত্রকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান শিরিন সুলতানা। স্ত্রীকে বাড়ি ফেরাতে না পেরে ওই দুই শিশুকে বাড়িতে এনে চেয়ারে বেঁধে নির্যাতন করে পাষণ্ড পিতা হাবিবুর রহমান শিমুল। আর শিশু দুটির নির্যাতনের ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে তাদের মায়ের কাছে পাঠায় সে। গত সোমবার (২০জুলাই) এ ঘটনা ঘটে। 

এরই মধ্যে মা শিরিন সুলতানা দুই সন্তানের নির্যাতনের ভিডিওটি ফেসবুকে পোস্ট করে পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। মঙ্গলবার রাতে পুলিশ হাবিবুর রহমান শিমুলকে আটক ও শিশু দুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, নিজের দুই সন্তানকে চেয়ারের সাথে বেঁধে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছে তাদের ‘মাদকসেবী’ বাবা। একই সঙ্গে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে বলছে ‘তোর মা আমার কথা শোনে না কেন’? এছাড়া সন্তানদের দিয়ে ঘর মোছানোর কাজ করানো হচ্ছে।

সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, ২০০৬ সালে জেলা সদরের ধানহাড়িয়া গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান শিমুলের সঙ্গে বিয়ে হয় শহরের আরাপপুর এলাকার শিরিন সুলতানার। এ দম্পতির ঘরে দুটি ছেলে রয়েছে। বিয়ের পর থেকে নানা কারণে শিরিনের ওপর অত্যাচার করছিল শিমুল। অত্যাচার সইতে না পেরে দুই ছেলেকে রেখে বাবার বাড়িতে চলে যান শিরিন। পরে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে আবার বাড়ি ফিরিয়ে আনার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে দুই ছেলেকে চেয়ারে বেঁধে নির্যাতন করে বাবা শিমুল।

আরও পড়ুন: রয়টার্সের জরিপে ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে বাইডেন!

মা শিরিন বলেন, ‘বিয়ের পর থেকে প্রায়ই আমাকে মারধর করত স্বামী। কয়েকবার সালিসের পর বাড়িতে নিয়ে আবারও মারধর করে স্বামী। এ জন্য তাকে তালাক দিতে বাধ্য হই। এখন আবার আমাকে ফিরিয়ে নিতে সন্তানদের মারধর করা হচ্ছে।’

ফেসবুকে দেওয়া শিরিনের স্ট্যাটাসটি হলো-

‘আমার বাসা আরাপপুর ঝিনাইদহ। এই বাচ্চা দুইটা আমার। এদের বাবার অত্যাচারের কারণে আমি চলে এসেছি বাবার বাড়ি। ওরা ওদের দাদা দাদীর সঙ্গে থাকে। মাঝে মাঝে আমার কাছে আসতো। ফোনে কথা হতো। কিন্তু এখন ওদের বাবা এরকম অত্যাচার শুরু করেছে। ভিডিও করে আমার কাছে পাঠায়। আমি বাচ্চা কাছে রাখছিলাম কিন্তু জোর করে নিয়ে গেছে। বাসায় এসে ভাঙচুর করে। আমার কোনো ভাই নাই, বাবাও অসুস্থ। বাচ্চা মানুষ করার সামর্থ্যও নাই আমার। তাই জোরও করতে পারি না। কিন্তু এখন অত্যাচারের পরিমাণ এতো বেড়ে গেছে যে আমার বাচ্চারা ওখানে থাকলে মরে যাবে। আমাকেও মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আমি বাইরে যেতে পারছি না। এমন কি আমার শ্বশুরও ফোন করে বলেছেন, আমি গেলে আমাকে খুন করে ফেলবে। ওদের বাবা নেশা করে। মাথার ঠিক নাই। কাজ করে না। এমন অবস্থায় আমি খুব নিরাপত্তাহীনতাই ভুগছি। আমি আমার বাচ্চাদেরকে আমার কাছে রাখতে চাই। এবং ওর শাস্তি দাবি করছি। আপনারা আমাকে সাহায্য করেন। ওর নাম হাবিবুর রহমান শিমুল। বাসা ধানহাড়িয়া, চুয়াডাঙ্গা। ঝিনাইদহ। পিতা লিয়াকোত আলী।’

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান আরও বলেন, ‘দুই ছেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে নির্যাতনের শিকার শিশুদের মা শিরিন সুলতানা বাদী হয়ে শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন। হাবিবুর রহমান শিমুলকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’

ইত্তেফাক/এএএম