রে জা উ ল ক রি ম খো ক ন
মাত্র ৬ বছর বয়সী শকুন্তলা মুখে মুখে কঠিন সব অঙ্ক করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। তখনই তার বাবা বুঝতে পেরেছিলেন প্রতিভা তাকে অনেক দূর পর্যন্ত নিয়ে যাবে। দেশজোড়া খ্যাতি, পরবর্তীকালে বিদেশযাত্রা, গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম তোলা—শকুন্তলা দেবী একে একে অর্জন করেন সবই। ৪১ বছর বয়সী এই গুণী অভিনেত্রী রূপালি পর্দায় তার বয়সের সঙ্গে মানানসই চরিত্রে একের পর এক চমক নিয়ে আবির্ভূত হচ্ছেন। নিজের অভিনয় যোগ্যতা ও মেধার উপযুক্ত ব্যবহার করে অভিনীত চরিত্রগুলোকে স্মরণীয় করে তুলছেন দর্শকদের জন্য। ১৭ বছর অভিনয় জীবনে বহু বিচিত্র রোলে অভিনয় করেছেন বিদ্যা। সব ধরনের জটিল ও চ্যালেঞ্জিং রোলে অভিনয়ের সুবাদে হিন্দি সিনেমার অন্যতম সেরা সুঅভিনেত্রীদের একজন হিসেবে গণ্য হচ্ছেন তিনি।
হিউম্যান কম্পিউটার ছিল তার ডাক নাম। সংখ্যা নিয়ে ম্যাজিক করতে জানতেন যে অসাধারণ মেধাবী নারী শকুন্তলা দেবী তার বাস্তব জীবনের গল্প রূপালি পর্দায় তুলে ধরতে নির্মিত হয়েছে বলিউডি সিনেমা ‘শকুন্তলা দেবী: হিউম্যান কম্পিউটার’। সিনেমাটির নির্মাণ কাজ শুরুর পর থেকেই সবার বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল। কারণ বহুল আলোচিত এই বায়োপিকে নাম ভূমিকায় অর্থাত্ অসাধারণ মেধাবী নারী শকুন্তলা দেবীর চরিত্রে রূপদান করেছেন বলিউডের বিখ্যাত অভিনেত্রী বিদ্যা বালান। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এতদিনে সিনেমা হলে মুক্তি পেয়ে যেত সিনেমাটি। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে বড় পর্দার সিনেমা এখন অনলাইন স্ট্রিমিং প্লাটফর্মে মুক্তির আয়োজন করছেন নির্মাতারা। ‘শকুন্তলা দেবী: হিউম্যান কম্পিউটার’ ছবিটি আমাজন প্রাইমে মুক্তি পাচ্ছে আগামি সপ্তাহে। ইতিমধ্যে ছবিটির প্রচারণা হিসেবে ইউটিউবসহ অনলাইনে ট্রেলার, টিজার দেখানো হচ্ছে। এই সময়ের আলোচিত মুক্তি প্রতীক্ষিত ‘শকুন্তলা দেবী: হিউম্যান কম্পিউটার’ ছবিটির কথাই ধরা যাক। ইতিমধ্যেই দর্শক ছবিটির ট্রেলারে বিদ্যাকে দুই বেনি বাঁধা তরুণী থেকে চুলে পাকধরা শকুন্তলা দেবীরূপে দেখে চমকে ওঠেছেন। একই ছবিতে একজন নারীর বিভিন্ন বয়সকে তুলে ধরেছেন তিনি অবলীলায়। যে নারীটির অসাধারণ মেধা থাকলেও তার জীবনের পথচলা মোটেও মসৃণ ও আরামদায়ক ছিল না। শকুন্তলার প্রতিভা, খ্যাতি, ক্যারিয়ারের সঙ্গে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয় তার মাতৃত্বের—কন্যাটি যখন মাকে প্রশ্ন করে, কেন তার মা অন্য পাঁচজন মায়ের মতো নয় তখন মা হিসেবে শকুন্তলা দেবী বিচলিত হন। তবে সেখানে থেমে না গিয়ে তিনি অবলীলায় বলে দেন মেয়েকে—তিনি কোনোদিন হারতে শেখেননি। আশ্চর্য প্রতিভা, বিশ্বজোড়া স্বীকৃতি, আপন সন্তানের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, জটিলতা, টানাপোড়েন—শকুন্তলা দেবীর জীবনের নানা দিক, নাটকীয় সব মোড় সেলুলয়েডে তুলে ধরতে অভিনেত্রী হিসেবে বিদ্যা বালান নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন এ ছবিতে। ফলে ‘শকুন্তলা দেবী: হিউম্যান কম্পিউটার’ ছবিটি তার অভিনয় জীবনে আরেকটি মাইলফলক হতে চলেছে—অনায়সেই বলা যায়।