অজ্ঞান পার্টির অপতত্পরতা

ঈদুল আজহা অত্যাসন্ন। রাজধানীসহ সমগ্র দেশের কোরবানির পশুর হাটগুলি জমিতে শুরু করিয়াছে। হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনা বাড়িতেছে। প্রতি বত্সর এই সময় ওত পাতিয়া থাকে একশ্রেণির দুর্বৃত্ত। তাহারা ক্রেতা-বিক্রেতার সর্বস্ব লুট করিয়া নেয়। এমনকি অস্ত্রের মুখে ছিনতাই করে গরুবোঝাই ট্রাকও। আবার কেহ-বা অন্য কায়দা অবলম্বন করে। হাটে গরু লিইয়া যাইবার পথে বা হাট হইতে গরু লইয়া আসিবার সময় পথিমধ্যে গরুর লাগাম ধরিয়া থাকা ব্যক্তি ও তাহার সহযোগীদের চোখেমুখে মলম লাগাইয়া অকস্মাত্ গরু নিয়া দেয় চম্পট। তাহাদের নাম হইল অজ্ঞান পার্টি বা মলম পার্টি। কখনো গরু ব্যবসায়ীকে টার্গেট করিয়া বিভিন্ন পরিবহনের পাশে বসিয়া একই কাজ করে এবং গরু বিক্রয়ের টাকা নিয়া যায়। যদিও কোরবানির পশুর হাটে বিভিন্ন ব্যাংকের বুথ খুলিবার পর এই প্রবণতা কমিয়াছে। এমনকি পুলিশের নজরদারি থাকায় পশুর হাটে বা ইহার আশপাশে তাহাদের তত্পরতা তেমন একটা নাই। তাহারা এখন বাছিয়া নিয়াছে সড়ক-মহাসড়কগুলি, যেইখান দিয়া গরুবোঝাই ট্রাক আসা-যাওয়া করে। ঐ সকল পথে এখন তাহারা অভিনব পন্থায় গরু ছিনতাই করিয়া থাকে। সাধারণত তাহারা প্রতিদিন খুব ভোরে নির্ধারিত স্থানে গিয়া মিলিত হয়। পরে তাহারা তাহাদের টার্গেট এলাকায় প্রাইভেটকার নিয়া ঘুরিয়া বেড়ায়। সুযোগ বুঝিয়া গরুবাহী ট্রাকের সম্মুখে প্রাইভেটকার দিয়া প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ইহার পর চালকের মুখে মলম লাগাইয়া পুরা ট্রাক লইয়া পালাইয়া যায়। যাহারা একসময় রাজধানীতে ভাড়া বাসা বা অফিসের মালামাল পরিবহন করিত, তাহাদের কেহ কেহ এভাবে অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির সদস্য হইয়া প্রাইভেটকারে চড়িয়া দিব্যি এমন অপকর্ম চালাইয়া যাইতেছে।

অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে হালকাভাবে দেখিবার সুযোগ নাই। তাহাদের মলম ব্যবহারে অনেক সময় চক্ষু নষ্ট হয়। তাহা ছাড়া তাহারা শপিংমল, বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশন, লঞ্চঘাট প্রভৃতি স্থানে সখ্য স্থাপনের মাধ্যমে অনেক সময় ট্যাবলেট মিশ্রিত খাদ্যদ্রব্য খাওয়ায় টার্গেট ব্যক্তিকে। এই ধরনের খাবারে অতিরিক্ত বিষক্রিয়ার ফলে অনেকের মৃত্যু পর্যন্ত হয়। দেখা যায়, ঈদসহ বড় উত্সব বা পার্বণ আসিলেই তাহাদের দৌরাত্ম্য বাড়িয়া যায়। তাই তাহাদের ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বদা সজাগ দৃষ্টি রাখা দরকার। সড়ক-মহাসড়কে বিশেষ করিয়া ভোরবেলায় যেই সকল চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটিতেছে তাহা প্রতিরোধে নির্দিষ্ট স্পটগুলিতে পুলিশি প্রহরা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি বাড়াইতে হইবে। জননিরাপত্তার স্বার্থেই ঈদুল আজহার আগে ও পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ব্যাপারে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক। অনেক সময় কর্মব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকার বিভিন্ন খাবার দোকান, চা স্টল ও পানীয় বিক্রির দোকানে থাকে তাহাদের পাতানো ফাঁদ। তাই এই ব্যাপারে জনসচেনতাও জরুরি।