সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার
কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীর খরুলিয়া ও রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি অংশে স্যালো ইঞ্জিনচালিত ড্রেজার দিয়ে রাত-দিন বালি উত্তোলন করে বিক্রি করছে প্রভাবশালীরা। যে স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে সেখান থেকে ১০-২০ গজের মধ্যে রয়েছে সড়ক ও ফসলি জমি। এতে নদীর দুই পাড়ে ইতিমধ্যে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে নদীগর্ভে ফসলি জমি, সড়ক ও গ্রামীণ বাড়িঘর বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
২০১০ সালের বালু উত্তোলন নীতিমালায় যন্ত্রচালিত মেশিন দ্বারা ড্রেজিং পদ্ধতিতে নদীর তলদেশ থেকে বালি উত্তোলন নিষিদ্ধ। এছাড়াও সেতু, কালভার্ট, ফসলি জমি ও রেললাইনসহ মূল্যবান স্থাপনার এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন বেআইনি। এত সব নিষেধাজ্ঞাকে পরোয়া না করেই চলছে বালু উত্তোলন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানান, বাঁকখালী নদীর দক্ষিণাংশে জনগুরুত্বপূর্ণ মিঠাছড়ি-রাজারকুল সড়ক আর উত্তরাংশে খরুলিয়ার কোনার পাড়া, ঘাটপাড়া। নদীর সঙ্গে উভয় পাড়ের দূরত্ব প্রায় ২০-৪০ গজ। এ অংশেই নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বালি তোলার ফলে নদীর ভাঙনরোধে বসানো কোটি টাকার আরসিসি ব্লকও সরে যাচ্ছে। প্রতিদিন মাটি ও বালু ভর্তি অসংখ্য ট্রাক চলাচলের কারণে নদীর তীরের কাঁচা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত বছরও কয়েক কোটি ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হয়। এরপর পাহাড়ি ঢলে ভাঙনের কবলে পড়ে নদীগর্ভে তলিয়ে যায় বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি। এরই মধ্যে গ্রামবাসীর অভিযোগ পেয়ে প্রশাসনের তরফে বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু কেমন করে যেন এই অভিযানের খবর আগেই পেয়ে যায় বালু উত্তোলনকারীরা। তারা ড্রেজার তুলে নিয়ে কেটে পড়ে।
প্রশাসনের লোকজন চলে গেলে আবার বালু তোলা শুরু হয়। এসব দেখে গ্রামবাসীদের অভিযোগ, প্রশাসনের সঙ্গে এই বালু উত্তোলনকারীদের সম্ভবত সখ্যতা আছে। ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান টিপু সুলতান বলেন, নদী থেকে ড্রেজারে বালি তোলা আইনসিদ্ধ নয়। তবে, তীরে জমে যাওয়া মাটি তুলে নিলে বন্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা বলেন, এভাবে বালি তোলা সম্পূর্ণ অবৈধ। তিনি উল্লেখ করেন, অপরাধীদের সঙ্গে সখ্যতার প্রশ্নই আসে না। অভিযোগ পেয়ে অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু ঘটনাস্থলে কিছুই পাওয়া যায়নি। মনে হয় পথিমধ্যে তাদের কোনো স্পাই লাগানো আছে। এবার সেসব মাথায় রেখেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।