বিবিসি
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে মতিউল্লাহ জান নামে এক সাংবাদিককে ‘তুলে নেওয়ার’ পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় হয়েছে। যদিও এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র জানায়, মতিউল্লাহ জান দেশটির সামরিক বাহিনীর নানান কর্মকাণ্ডের কট্টর সমালোচক ছিলেন। একটি ব্যস্ত সড়ক থেকে তাকে তুলে নেওয়ার একটি ভিডিও তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তাদের বক্তব্য, সামরিক বাহিনীর সমালোচক ছিলেন বলে তাকে অজ্ঞাত সশস্ত্র ব্যক্তিরা ধরে নিয়ে যায়। ঘটনাটির জন্য কেউ কেউ দেশটির গুপ্তচর সংস্থাগুলোর দিকেও অঙ্গুলি নির্দেশ করেছেন। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের একজন শীর্ষ বিচারপতির বিরুদ্ধে দায়ের করা এক মামলার রায়ের সমালোচনা করেছিলেন মতিউল্লাহ জান। এ বিষয়ে আদালত অবমাননার একটি নোটিশের জবাব দিতে সুপ্রিম কোর্টে হাজিরা দেওয়ার আগের দিন ‘তুলে নেওয়ার’ ঐ ঘটনা ঘটে। কয়েক ঘণ্টা পরই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন। তার ভাই শহিদ আব্বাসি বলেন, ‘অপরিচিত একটি নম্বর থেকে ফোন করে ফতেহজং গিয়ে তাকে নিয়ে আসতে বলা হয়’। এরপরই তারা তার ভাইয়ের দেখা পান। সাংবাদিকের আইনজীবী আব্বাসী বলেন, ‘তুলে নেওয়ার পর থেকেই অপহরণকারীরা চোখ বেঁধে রেখেছিল বলে মতিউল্লাহ জানিয়েছেন। ছেড়ে দেওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে বহন করা গাড়িটি বারবার এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চক্কর দিয়েছিল।’
মতিউল্লাহর স্ত্রী একটি উইমেনস কলেজে কাজ করেন। মঙ্গলবার সকালে স্ত্রীকে নামিয়ে দেওয়ার পর ঐ কলেজের সামনে থেকেই তাকে ‘তুলে নেওয়া’ হয়েছিল। কলেজ ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, পুলিশ চিহ্নিত কয়েকটি গাড়ি ও একটি অ্যাম্বুলেন্স মতিউল্লাহকে ঘিরে ফেলে তাকে জোর করে ধরে নিয়ে যায়। অজ্ঞাত ও সশস্ত্র ব্যক্তিদের কয়েক জনের শরীরে ইউনিফরমও ছিল।