ডা.সাবরিনার বিরুদ্ধে দ্রুত চার্জশিট দিচ্ছে ডিবি

করোনা পরীক্ষার সনদ জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেফতার জেকেজির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরীর বিরুদ্ধে দ্রুত চার্জশিট দিচ্ছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ (ডিবি)। গতকাল ডিবির প্রধান আব্দুল বাতেন বলেছেন, ‘চেয়ারম্যান হিসেবে নয়, জোবেদা খাতুন সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা (জেকেজি) আহ্বায়ক ছিলেন ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী ওরফে ডা. সাবরিনা শারিমন হুসাইন। মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে আমরা দ্রুতই চার্জশিট দিতে পারব।’

গ্রেফতারের আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ডা. সাবরিনা নিজেকে জেকেজির চেয়ারম্যান পরিচয় দিলেও ডিবির তদন্তে তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানান আব্দুল বাতেন। তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যান হিসেবে কোনো নথিপত্র আমরা পাইনি। তবে আহ্বায়ক হিসেবে সম্পৃক্ত থাকার নথিপত্র পাওয়া গেছে।’

এর আগে ডিবির কর্মকর্তারা একাধিকবার বলেছেন, ‘জেকেজির চেয়ারম্যান হিসেবে ডা. সাবরিনার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তিনি জেকেজি থেকে মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন নিতেন। এছাড়া জেকেজির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও সাবরিনার স্বামী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছ থেকে নেওয়া দুটি চেক পেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।’

উল্লেখ্য, করোনা পরীক্ষার সনদ জালিয়াতির অভিযোগে গত ২৩ জুন আরিফুল হক চৌধুরীসহ প্রতিষ্ঠানটির ছয় কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে তেজগাঁও থানাপুলিশ। জেকেজির বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর ২৪ জুন করোনার নমুনা সংগ্রহের জন্য জেকেজির অনুমতি বাতিল করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পুলিশি তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে করোনা সনদ জালিয়াতিতে ডা. সাবরিনার নাম আসে। তিনি জাতীয় হূদেরাগ ইনস্টিটিউটের কার্ডিয়াক সার্জন ও কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার। গত ১২ জুলাই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ এবং ঐ দিনই জাতীয় হূদেরাগ ইনস্টিটিউট হাসপাতাল থেকে ডা. সাবরিনাকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তাকে ১৩ জুলাই তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। জেকেজির সিইও আরিফুল হক চৌধুরীকে গত বুধবার দ্বিতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ডিবি। আর সাবরিনাকে দ্বিতীয় দফায় দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয় গত শুক্রবার। ডিবি কার্যালয়ে দুই জনকেই জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আরিফকে গত ১৯ জুলাই এবং সাবরিনাকে গত ২০ জুলাই (সোমবার)  কারাগারে পাঠানো হয়। তারা দুই জনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হননি।