ঈদের আগে ও পরের সাত দিন সড়কের উন্নয়নকাজ বন্ধ :কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঈদের আগের সাত দিন ও পরের সাত দিন ফ্লাইওভার, আন্ডারপাসসহ চলমান কাজ জনস্বার্থে বন্ধ রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়মিত সড়ক-মহাসড়কের খোঁজখবর নিচ্ছেন। যেকোনো মূল্যে সড়ক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আসন্ন ঈদ-উল-আজহায় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকল্প পরিচালক এবং দেশব্যাপী বিভিন্ন সড়ক জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীদের নিয়ে সড়ক ভবনে অনুষ্ঠিত ঈদ প্রস্তুতি সভায় ওবায়দুল কাদের নিজ বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন সরকার ইতিমধ্যে ঈদে কর্মস্থল             ত্যাগ না করার জন্য নির্দেশনা জারি করেছে। তাই, আপনারা নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন। কঠিন এক বাস্তবতায় আমরা এবার ঈদ উদ্যাপন করতে যাচ্ছি। একদিকে বৈশ্বিক মহামারি করোনার সংক্রমণের ঝুঁকি। অন্যদিকে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়া বন্যা। সরকার নানা দিক বিবেচনায় নিয়ে জনস্বার্থে গণপরিবহন চলাচল অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই সড়ক-মহাসড়ক ব্যবস্থাপনা, সুরক্ষা এবং তাত্ক্ষণিক মেরামতে অতীতের মতো সড়ক ও জনপথ বিভাগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণের ঈদযাত্রা করতে হবে নির্বিঘ্ন।

সড়ক মহাসড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আপনারা জোন ভিত্তিক ও আন্তঃজোন সমন্বয় করে পরিকল্পনা গ্রহণ করুন। মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হতে পারবে না। ঢাকা জোনের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি বলে মনে করি। এক্সিট পয়েন্ট, বিশেষ করে ভুলতা, নবীনগর, চন্দ্রা, গাজীপুরের পুরো করিডোর, নবীনগর-চন্দ্রা করিডোর, টঙ্গী, কালিয়াকৈর-চন্দ্রা করিডোর ব্যবস্থাপনায় নজর দিতে হবে। পুলিশের সহযোগিতা নিতে হবে। এসব এলাকায় গাড়ি থামতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবক বা কমিউনিটি পুলিশের সাপোর্ট নিতে হবে। নজরদারিতে রাখতে হবে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু এবং বিকল্প ঠিক করে রাখতে হবে আগেই। নবীনগর, বাইপাইল, ইপিজেড, চন্দ্রা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর, ভুলতা, কাঁচপুর এলাকায় অসংখ্য গার্মেন্টস। এসব গার্মেন্টস যেদিন ছুটি দিবে সেদিন ঘরমুখো মানুষের প্রচণ্ড চাপ তৈরি হবে। আগেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিজিএমইএর সঙ্গে সমন্বয় করুন। প্রয়োজনে বিআরটিসির বাস এ সব পয়েন্টে আগে থেকে স্ট্যান্ডবাই রাখুন। টঙ্গী-গাজীপুর মহাসড়কে বিআরটিএর প্রকল্পের কাজ চলমান। প্রয়োজনে গাজীপুরের মেয়র, পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বিশেষ নজর দিতে হবে। সড়ক ও মহাসড়ক অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী কাজী শাহরিয়ার হোসেন ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. সবুজ উদ্দিন খানসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।