ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তৈয়ব হোসেন নামে এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে পাঁচ লক্ষাধিক টাকা ছিনতাই করার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (২২ জুলাই) ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে করেছেন। ব্যবসায়ী তৈয়ব হোসেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের সাবেক ইউপি মেম্বার জাহের আহমেদের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভাটপাড়া রাস্তার মাথায় তৈয়ব ভ্যারাইটিজ স্টোর নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন।
ব্যবসায়ী তৈয়ব হোসেন জানান, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকাল ৩টার দিকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার অগ্রণী ব্যাংক থেকে ৫ লাখ ৯ হাজার ৮৫০ টাকা উত্তোলন করে বের হতেই সিলভার কালারের একটি মাইক্রো থেকে ডিবি পুলিশের কটি (পোশাক) পরা চারজন লোক এসে তাকে হাতকড়া পরিয়ে মাইক্রোতে তুলে নিয়ে যায়। এরপর হাতকড়া খুলে গামছা দিয়ে তার হাত-পা বেঁধে মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে ব্যাংক থেকে উত্তোলনকৃত টাকা, পকেটে থাকা নগদ ৭ হাজার টাকা ও বিকাশ ব্যবহৃত দুইটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে তারা তাকে কুমিল্লা দাউদকান্দির গৌরিপুর এলাকায় গিয়ে গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে একটি ডোবায় ফেলে দেয় দ্রুত চলে যায়। পরে ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ছিনতাইকারীদের বর্ণনা দিতে গিয়ে তৈয়ব হোসেন বলেন, মাইক্রোর বাইরে ইংরেজিতে ‘এমআই’ অক্ষর দিয়ে কিছু একটা লেখা রয়েছে। তাদের হাতে ওয়ারলেস ও পিস্তল ছিল। মাইক্রোতে চালকসহ পাঁচজন ছিল। ছিনতাইকারীরা তাকে মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী হিসেবে স্বীকারোক্তি দিতে চাপ দিয়েছিল।
ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট শাকিল সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ইলিয়টগঞ্জ এলাকার পুটিয়ায় একটি ডোবা থেকে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তৈয়ব হোসেন নামের একজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করি। পরে তৈয়ব হোসেনের পরিবারের সদস্যরা এসে তাকে নিয়ে যায়।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো: নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বুধবার সকালে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কৃষ্ণ ধর ও সেকেন্ড অফিসার খাদেমুল বাহার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। লিখিত অভিযোগ দিলে মামলা নেওয়া হবে। এছাড়া ব্যাংকের সিসি ক্যামেরার ফুটেজও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ছিনতাইকারীদের ধরতে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
ইত্তেফাক/এমএএম