মির্জাপুরে ২৪ ঘণ্টায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি

টানা বৃষ্টি ও বংশাই-লৌহজং নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ডুবে গেছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের (সংযোগ) ১২ আঞ্চলিক সড়কসহ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

বন্যার কবলে পড়েছে কুমুদিনী হাসপাতাল এবং উপজেলা সদরের শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম। অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নতুন এলাকায় বন্যা কবলিত হওয়ায় অসহায় পরিবারগুলো দুর্বীসহ জীবন যাপন করছেন। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন বলে জানিয়েছেন।

বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বন্যার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় মির্জাপুর-ওয়ার্শি-বালিয়া রোড, মির্জাপুর-ভাওড়া-কামারপাড়া রোড, দেওহাটা-বহুরিয়া-ধানতারা রোড, কুরনী-ফতেপুর রোড, কদিমধল্যা-বরাটি রোড, বানিয়ারা-বাসাইল রোড,ডুবাইল-মহেড়া-ফতেপুর রোড, পাকুল্যা-দেলদুয়ার রোড, কাটরা-উফুলকী রোডসহ অধিকাংশ এলাকার আঞ্চলিক রোড ডুবে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এছাড়া কুমুদিনী হাসপাতাল এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে পানি প্রবেশ করেছে। বিভিন্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রেও পানি প্রবেশ করায় চিকিৎসা সেবা ব্যহত হচ্ছে। এক দিকে করোনা অপর দিকে বন্যার পানি বৃদ্ধির ফলে কোরবানীর পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে বলে জানিয়েছেন দেড় শতাধিক খামারি এবং বেপারিরা।
 
আজ  বৃহস্পতিবার ভাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমজাদ হোসেন জানান, ফতেপুর, লতিফপুর, মহেড়া, জামুর্কি, বহুরিয়া, ভাওড়া, ভাদগ্রাম, ওয়ার্শি, বানাইল এবং আনাইতারা ইউনিয়নের আঞ্চলিক সড়কগুলো তলিয়ে গেছে। ইতিমধ্যে ভাওড়া ইউনিয়ন পরিষদ, বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদসহ তার ইউনিয়নে অধিকাংশ রাস্তা-ঘাট ডুবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। কামারপাড়া বাজার, বহুরিয়া হাটি, বরাটি হাট, দেওহাটা গরুর হাট, মাঝালিয়া হাট, ফতেপুর হাটসহ ৮ ইউনিয়নের অধিকাংশ হাট-বাজারে বন্যার পানি উঠায় বিপাকে পড়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতাসহ ব্যবসায়ীরা। পানি বৃদ্ধির ফলে বংশাই নদীর ফতেপুর, হিলড়া আদাবাড়ি, থলপাড়া, বৈন্যাতলী, চাকলেশ্বর, গোড়াইল, গাড়াইল, পুষ্টকামুরী পুর্বপাড়া, বাওয়ার কুমারজানি, ত্রিমোহন, বান্দরমারা, যুগিরকোপা, রশিদ দেওহাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন। একই অবস্থা লৌহজং নদীর মাঝালিয়া, গুনটিয়া, চুকুরিয়া, বরাটি, দেওহাটা, কোর্ট বহুরিয়া, বহুরিয়া, কামারপাড়া, নাগরপাড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকা।

গত ২৪ ঘণ্টায় বংশাই ও লৌহজং নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পৌরসভার আলহাজ্ব শফিউদ্দিন মিয়া এন্ড একাব্বর হোসেন টেকনিক্যাল কলেজ, মির্জাপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ, আগধল্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইচাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুইচতারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বরাটি উচ্চ বিদ্যালয়সহ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে পানি ঢুকেছে। কুমুদিনী হাসপাতালে বন্যার পানি প্রবেশ করায় চিকিৎসা সেবা ব্যহত হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক মোস্তাকিম এবং সহকারী কমিশনার (ভুমি) মীর্জা মো. জুবায়ের হোসেন বলেন,  বন্যা কবলিত এবং নদী ভাঙ্গন এলাকা গতকাল বুধবার পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সহায়তার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/এমআরএম