ভূঞাপুরে আবারও বাড়ছে যমুনার নদীর পানি, দুর্ভোগে লক্ষাধিক মানুষ

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনার নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। এতে মধ্যঞ্চল ও নিম্নাঞ্চালের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এদিকে বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কে ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়া উপজেলার টেপিবাড়ী হতে নলীন পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার সড়ক হুমকিতে রয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জানা গেছে, যমুনা নদীতে গত ১২ ঘণ্টায় ৮ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৬৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যা গতকাল বুধবার বিকাল পর্যন্ত ছিল ৬১ সেন্টিমিটার। নদীতে পানি বৃদ্ধি ও বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় নিম্নাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে পানি প্রবেশ করে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এতে ব্যাপক পরিমাণ জমির ফসল ও বীজতলা তলিয়ে গেছে। অন্যদিকে পানি বৃদ্ধি ও বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কের কুঠিবয়ড়া এলাকায় ৫০ মিটার অংশে ফাটল ও একপাশে দেবে গিয়েছে। 

এতে গত মঙ্গলবার সড়কটি দিয়ে যানচলাচল বন্ধ ছিল। পরে সড়কে সংস্কার কাজ করার পর যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। এছাড়া ওই সড়কের উপজেলার টেপিবাড়ী হতে নলীন পর্যন্ত সড়ক হুমকির মুখে রয়েছে। 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যার পানি প্রবেশ করায় তিল এক হাজার হেক্টর, আউশ ধান ১২’শ হেক্টর, পাট ৫’শ হেক্টর, বোনা আমন ৯’শ হেক্টর, আমন বীজতলা ২৫ হেক্টর ও বিভিন্ন সবজির দেড়শ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। 

আরও পড়ুন: তিন ফুট ভাঙলেই পানির নিচে তলিয়ে যাবে ৫০ হাজার পরিবার

এদিকে বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় বন্যার্ত এলাকায় তীব্র খাদ্যে সংকট দেখা দিয়েছে। শিশু খাদ্যসহ গো-খাদ্যে সংকট রয়েছে। উপজেলার হাজার হাজার পরিবার ত্রাণ সহায়তার বাইরে রয়েছে। বন্যায় বসত বাড়িরগুলোর টিউবওয়েল তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ খাবার পানি পাচ্ছেন না বন্যার্তরা। সরকারিভাবে যে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে তা পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান জানান, দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় কৃষিতে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. নাসরীন পারভীন জানান, খবর পেয়ে ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কাজ করার জন্য অবহিত করা হয়েছে। 

ইত্তেফাক/এএএম