মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত। হোক জীবিত কি মৃত। উভয় অবস্থায়ই তার সন্মান আছে। আল্লাহ পাক মানুষকে সন্মানিত করেছেন। সৃষ্টির সেরা করেছেন। অথচ সেই মানুষ একে অন্যের গিবত করছে। হরদম মিথ্যা দোষারোপ করছে। সবচেয়ে নিকৃষ্ট হলো, মৃত মুসলিম ভাইয়ের সমালোচনা করছে। দোষচর্চা করছে; যা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষেধ। যার সমালোচনা করা হচ্ছে, তিনি আদৌ ওই কাজটি করেছেন কি না নিশ্চিত নয়। তবুও তাকে দোষারোপ করা হচ্ছে। প্রায় সম্পূর্ণই অনুমাননির্ভর ব্যাপার। অথবা অন্যের কাছে শোনা কথা। অনুমানবশত কথাবার্তার জায়গা ইসলামে নেই। যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, সেই বিষয়ে অনুমান দ্বারা পরিচালিত হোয়ো না। কর্ণ, চক্ষু, হূদয়—ওদের প্রত্যেকের নিকট কৈফিয়ত তলব করা হবে। [সুরা আল-ইসরা, আয়াত-৩৬]। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: তোমরা অনুমান করা থেকে বেঁচে থাক। কেননা, অনুমান সর্বাপেক্ষা মিথ্যা। আর তোমরা ছিদ্রান্বেষণ কোরো না, গোপন দোষ অনুসন্ধান কোরো না, তোমরা পরস্পর পার্থিব বিষয়ে সীমাহীন প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হোয়ো না, পরস্পর বিদ্বেষ পোষণ কোরো না, হিংসা কোরো না; পরস্পরে পশ্চাতে শক্রতা কোরো না বরং তোমরা সবাই আল্লাহর বান্দা রূপে ভাই ভাই হয়ে থাক। [সহিহ মুসলিম, অধ্যায় : ৪৭/ সদ্ব্যবহার, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ও শিষ্টাচার, হাদিস নম্বর : ৬৩০৪]। মৃত ব্যক্তি সে যেই হোক। কাছের কিংবা দূরের। পরিচিত বা অপরিচিত। তার সমালোচনা করা যাবে না। গালি দেওয়া যাবে না। এগুলো হলো নিকৃষ্ট, নোংরা মনের কাজ। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মৃত ব্যক্তিদের গালমন্দ কোরো না। কারণ, তারা যা করেছে তার প্রতিফল পাওয়ার স্থানে পৌঁছে গেছে। (বুখারি)। ইসলামি আইনের একটি নীতি হলো, ‘মানবসন্তান জীবিত বা মৃত হোক সম্মানের পাত্র বলে গণ্য হবে।’ (আল মাবসুত, ৫৯/২)। মুসলমান মুসলমান পরস্পর ভাই। একে অপরের সুখ, দুঃখের সঙ্গী। হাদিসে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির জন্য তার মুসলিম ভাইয়ের সঙ্গে তিন দিনের অধিক সম্পর্ক ছিন্ন করে থাকা হালাল নয়। সেখানে মৃত ভাইয়ের সমালোচনা, গিবত গাওয়ার কথা ভাবা যায়! যে মৃত ব্যক্তিকে গালি দেওয়া হচ্ছে, যারা এসব দিচ্ছেন, তারা ওই ব্যক্তির কতটুকুই বা জানেন। হজরত আবু আইউব আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কোনো ব্যক্তির জন্য তার মুসলিম ভাইয়ের সঙ্গে তিন দিনের অধিক সম্পর্ক ছিন্ন করে থাকা হালাল নয়। অবস্থা এই দাঁড়ায় যে, দুজন মুখোমুখি হলে একজন এদিকে এবং অপর জন ওদিকে মুখ ঘুরিয়ে চলে যায়। দুজনের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে প্রথমে সালাম দিয়ে কথাবার্তা শুরু করে। (বুখারি ও মুসলিম)। সোশ্যাল মিডিয়ায় যা জানলেন। দেখলেন। তা মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। মিথ্যা, ভুল জেনে তা বলে বেড়ালেন। এমন বোকামির কোনো মানে হয়? শুধু শুধু পাপের বোঝা ভারী করবেন কেন? ইদানীং মৃত ব্যক্তির নোংরা সমালোচনা সামাজিক মাধ্যমে খুব হচ্ছে, যা সত্যিই দুঃখজনক। মুসলমানের এই নোংরামি মানায় না। ইসলাম সুন্দর, সহমর্মিতা, সহনশীলতার ধর্ম। কারো প্রতি রাগ, ক্ষোভ থাকতেই পারে। কিন্তু সেটা পুষে রেখে কি লাভ? আর যে যদি হয় মৃত ব্যক্তি। বরং ক্ষমা করে দিলে তাতেই মঙ্গল। ক্ষমায় কল্যাণ আছে। রাগ, ক্ষোভ, হিংসায় কল্যাণ নেই।
l লেখক :ইসলামী গবেষক