ক্যাসিনো ঘটনায় পুরনো ঢাকার গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত দুই ভাই সহসভাপতি এনামুল হক এনু ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুপন ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের চার মামলায় চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে বুধবার (২২ জুলাই) এ চার্জশিট দাখিল করা হয়। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সারোয়ার হোসেন ।
এসআই সারোয়ার জানান, বুধবার বিকালে গেন্ডারিয়া, ওয়ারী ও সূত্রাপুর থানায় দায়ের করা অর্থ পাচারের চার মামলায় এনামুল হক এনু ও রুপন ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছে সিআইডি।
কয়েক দফা রিমান্ড শেষে এনু-রুপন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার আইনে ৫টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি মামলার তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দাখিল করলো সিআইডি। অর্থ পাচারের আরও একটি মামলার তদন্ত চলছে। তাদের বিরুদ্ধে অন্য অভিযোগে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে।
এর আগে গত ১৪ জুলাই সিআইডির ডিআইজি (অর্গানাইজড ক্রাইম) ইমতিয়াজ আহমেদ জানিয়েছিলেন, ক্যাসিনোতে জড়িয়ে উত্থান ঘটে এনু-রুপনের। জমিসহ ২০টি বাড়ি, ১২০টি ফ্ল্যাট, ২৫ কাঠা জমি ছাড়াও ৯১টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৯ কোটি টাকা পাওয়া গেছে দুই ভাইয়ের। তাদের বিরুদ্ধে মামলার তদন্তের কাজ শেষ। চার্জশিটও পাওয়া চূড়ান্ত। ইমতিয়াজ আহমেদ সেদিন জানিয়েছিলেন, ২১ জুলাই চার্জশিট দাখিল করা হবে আদালতে। তার কথামতো মঙ্গলবার না হলেও পরদিন আদালতে জমা পড়লো চার্জশিট।
গত বছর ২৪ সেপ্টেম্বর এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়াদের পুরান ঢাকার বানিয়ানগরের বাসায় এবং তাদের দুই কর্মচারীর বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। সেখান থেকে ৫ কোটি টাকা এবং সাড়ে ৭ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় সূত্রাপুর ও গেন্ডারিয়া থানায় তাদের নামে ৬টি মামলা হয়। পরে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি এনু-রুপনের লালমোহন সাহা স্ট্রিটের বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। ওই বাড়ি থেকে ২৬ কোটি ৫৫ লাখ ৬০০ টাকা জব্দ করা হয়। ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার এফডিআরের কাগজ এবং এক কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় দুই ভাইয়ের নামে আরও দুটি মামলা হয়।
অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনও এনু-রুপনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করে। মামলায় এনুর বিরুদ্ধে ২১ কোটি ৮৯ লাখ ৪৩ হাজার টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের এবং রুপনের বিরুদ্ধে ১৪ কোটি ১২ লাখ ৯৫ হাজার ৮৮২ টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। তবে দুদক এখনো আদালতে কোনো প্রতিবেদন জমা দেয়নি।
ইত্তেফাক/ইউবি