করোনা পরিস্থিতিতে এলডিসি থেকে উত্তরণে সময় চাইতে পারে বাংলাদেশ

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণ ইস্যুতে আগামী বছর পর্যালোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। স্বাভাবিক বিবেচনায় বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের কথা এবং পরবর্তী তিন বছর অর্থাত্ ২০২৪ সাল থেকে ইউরোপ বাদে অন্যান্য দেশে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা হারাবে। এর ফলে রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বাংলাদেশ। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতিতে টালমাটাল অবস্থা। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশসহ একই অবস্থানে থাকা অন্য দেশগুলোর স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ পিছিয়ে দিতে দ্রুত লবিং শুরু করতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাসহ (ডব্লিওটিও) সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা কিংবা স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) নেতৃত্ব দিতে পারে বলেও মত দেন তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার ইকোনমিক রিপোর্টর্স ফোরাম আয়োজিত এক কর্মশালায় তারা এসব কথা বলেন। ‘কোভিড-১৯ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ইস্যু :বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর উপায়’ শীর্ষক অনলাইনে আয়োজিত ঐ কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনিশ। এতে অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও অর্থনীতির সাংবাদিকরা অনলাইনে যুক্ত থেকে আলোচনায় অংশ নেন।

প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে গবেষণা প্রতিষ্ঠান র্যাপিড-এর চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক বলেন, চীন সম্প্রতি দেশটিতে বাংলাদেশি ৯৭ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে। এর ফলে চীনের বিশাল বাজার ধরার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় রপ্তানির লক্ষ্যে চীনসহ অন্যান্য দেশের বিনিয়োগ আনারও বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা চেম্বারের (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি ও বিল্ড এর চেয়ারম্যান আবুল কাশেম খান করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বাস্তবতার নিরিখে সরকারের নীতিকাঠামোয় পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেন।

এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী চলতি বছরের শেষ নাগাদ করোনা পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনার কথাও জানান। তিনি বলেন, করোনায় সমস্যার পাশাপাশি যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে—এই ট্রেন মিস করতে চাই না। এ লক্ষ্যে সরবরাহ চেইন, ভ্যাট ইস্যুসহ অন্যান্য চ্যালেঞ্জ সমাধানের লক্ষ্যে বাণিজ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ করছে।

কর্মশালা আয়োজনে সহযোগিতা করেছে রেপিড ও দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন। ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ডিসিসিআইর সভাপতি শামস মাহমুদ, দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ, র্যাপিড-এর নির্বাহী পরিচালক আবু ইউসুফ প্রমুখ।