হংকংয়ের প্রায় ৩০ লাখ মানুষ ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পেতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিতি প্যাটেল একে ‘অত্যন্ত উদার’ বলে আখ্যায়িত করেছে। কিন্তু যুক্তরাজ্যের এ পদক্ষেপকে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন। তারা একে ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্গণ ও চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে আখ্যায়িত করেছে।
বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,১৯৯৭ সালে হংকংকে চীনের হাতে তুলে দেওয়ার সময়ই ব্রিটিশ নাগরিক (বিদেশ) বা বিএনও জাতীয়তাবাদ তৈরি করা হয়েছিল। এ নীতির আওতায় আগামী জানুয়ারি থেকেই হংকংবাসী আবেদন করতে পারবেন। এর জন্য তাদের কোনও ধরনের দক্ষতার পরীক্ষা বা ন্যূনতম আয়ের হিসাব দেওয়া লাগবে না। আবেদনকারীরা তাদের ওপর নির্ভরশীল, যাদের বিএনও স্ট্যাটাস নেই তাদেরও সঙ্গে নিয়ে যেতে পারবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনও জাতীয়তাবাদ ১৯৯৭ সালের আগে হংকংবাসীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিশেষ সম্পর্ককে স্বীকৃতি দিয়েছে। একশ বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল হংকং। প্রায় দুই যুগ আগে ‘এক দেশ, দুই নীতি’ চুক্তিতে অঞ্চলটিকে চীনের হাতে তুলে দেয় যুক্তরাজ্য। তবে শর্ত ছিল, হংকংয়ের আংশিক স্বায়ত্তশাসন এবং সেখানকার বাসিন্দাদের নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে চীনকে। সম্প্রতি হংকংয়ে নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর প্রসঙ্গে প্রীতি প্যাটেল বলেন, এর মাধ্যমে পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে চীন। যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, হংকংয়ের আবেদনকারীদের পাঁচ বছরের ভিসা দেওয়া হবে। এই সময়ে যারা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন এবং কোনও ধরনের অপরাধে জড়িত হবেন না, তারা স্থায়ী নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এর এক বছর পর তারা যুক্তরাজ্যের পূর্ণ নাগরিকত্ব পাবেন।