ফেডারেল বাহিনীকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ দমনে বিভিন্ন শহরে ফেডারেল বাহিনী পাঠানোকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ভরসা না রেখে তিনি শহরগুলোতে ফেডারেল পুলিশ পাঠাতে শুরু করেছেন। সহিংসতা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় শিকাগোসহ আরো দুটি ডেমোক্র্যাট অধ্যুষিত শহরে এই সদস্যদের পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট। কিন্তু এর আগে পোর্টল্যান্ড ও অরেগন শহরে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন যে, এর কারণে চলমান বিক্ষোভের সময়টাতে আরো বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে।—খবর বিবিসি ও ডয়চেভেলের মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার জানান, তারা প্রায় ২০০ ফেডারেল এজেন্টকে কানসাস সিটি ও মিসৌরিতে পাঠিয়েছেন। এমন সংখ্যক আরো এজেন্টকে শিকাগোতে এবং প্রায় ৩৫ জনকে নিউ মেক্সিকোর আলবুকারকিতে পাঠানো হবে। ৬০ মিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হবে, যাতে সহিংসতা আক্রান্ত শহরগুলোতে আরো বেশিসংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়োগ করা যায়।

শহরগুলোতে ব্যাপক বিক্ষোভ

ট্রাম্পের দাবি, শিকাগোর অবস্থা আফগানিস্তানের চেয়েও খারাপ। তাই সেখানে ফেডারেল বাহিনী না পাঠিয়ে উপায় নেই। শুধু শিকাগো নয়, আরো একগুচ্ছ শহরে ফেডারেল পুলিশ পাঠাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। ইতিমধ্যেই কানসাসে ২০০ জন ফেডারেল পুলিশকর্মী আছেন। পোর্টল্যান্ডে আছেন। ট্রাম্প প্রশাসন ফেডারেল বাহিনী পাঠিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার নাম দিয়েছে ‘অপারেশন লিজেন্ড’। মঙ্গলবার রাতে ফেডারেল এজেন্টরা পোর্টল্যান্ডে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস, মরিচের বল এবং বিকট শব্দ তৈরি করে এমন গ্রেনেড ছোঁড়ে। পোর্টল্যান্ডে টানা ৫৪ দিনের মতো বিক্ষোভ চলছে।

এজেন্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা অরেগনের বড় শহরগুলোতে সামরিক পোশাক পরে সাধারণ গাড়িতে করে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং বেআইনিভাবে অনেক বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করছে। পোর্টল্যান্ড মেয়রকে লক্ষ্য করেও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়েছে। শিকাগোর মেয়র লরি লাইটফুট নিশ্চিত করে বলেছেন, তার শহরে স্থানীয় পুলিশ বাহিনীকে জোরদার করতে ফেডারেল এজেন্টরা কাজ করবেন। আমরা অংশীদারিত্বকে স্বাগত জানাই, কিন্তু আমরা একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ চাই না। তিনি সতর্ক করেন যে, পোর্টল্যান্ডে ফেডারেল কর্মকর্তারা যে ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে তা যেন তাদের ওপরও প্রয়োগ করা না হয়।

সর্বশেষ এক ঘটনায় একটি শেষকৃত্যানুষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত ভবনের বাইরে এক গুলির ঘটনায় ১৪ জন নিহত হয়। এটি গ্যাং সম্পর্কিত ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিকাগো সান টাইমসের হিসাব অনুযায়ী, শহরটিতে গত বছরের তুলনায় হত্যাকাণ্ড ৩৪ ভাগ বেড়েছে। শিকাগোতে চলতি বছরে এখনো পর্যন্ত ৪১৪টি হত্যা হয়েছে, যা আগের বছরের প্রায় দ্বিগুণ। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই নিউ ইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়া, লসঅ্যাঞ্জেলেস এবং মিলওয়াকির মতো মেট্রোপলিটন শহরগুলোতে বন্দুক নিয়ে সহিংসতা বেড়েছে।