স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন ডিজি খুরশীদ আলম

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালকের দায়িত্ব পেয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক আদেশে ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে অবিলম্বে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্বে যোগ দিতে বলা হয়েছে। খুরশীদ আলম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদে অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের স্থলাভিষিক্ত হলেন, যাকে নানা কেলেঙ্কারি আর বিতর্কের মধ্যে ঐ পদ ছাড়তে হয়েছে।

২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদে ছিলেন ডা. আবুল কালাম আজাদ। সরকারি চাকরির বয়স শেষ হওয়ার পরও তাকে দুই বছরের       চুক্তিতে ঐ পদে রাখা হয়েছিল, যার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল আগামী বছরের এপ্রিলে। কিন্তু করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একের পর এক কেলেঙ্কারিতে সমালোচনার মুখে গত ২১ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার ডা. আজাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে তার চাকরির অবসান হওয়ার প্রজ্ঞাপন জারি করে।

নতুন মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস করে দশম বিসিএসে ১৯৮৪ সালে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান হওয়ার আগে তিনি কুমিল্লা মেডিক্যালের সার্জারি বিভাগের প্রধান ছিলেন। কিছু দিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজেও চাকরি করেছেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি যোগ দেন ২০১৮ সালে।

স্বাস্থ্য খাতে কেনাকাটায় নানা অনিয়ম নিয়ে এর আগে কথা উঠলেও তাতে সমস্যায় পড়তে হয়নি ডা. আবুল কালাম আজাদকে। কিন্তু গত মার্চে দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একের পর এক কেলেঙ্কারির খবর প্রকাশ হতে থাকলে তাকে বিপাকে পড়তে হয়। শুরুটা হয়েছিল চিকিত্সকদের নিম্ন মানের মাস্ক সরবরাহ দিয়ে। এরপর রিজেন্ট হাসপাতাল, জেকেজি হেলথ কেয়ারের জালিয়াতি ফাঁস হওয়ার পর তোপের মুখে পড়েন ডা. আজাদ। এক পর্যায়ে তিনি রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে সরকারের চুক্তির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দিকে অভিযোগ তুলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিরোধেও জড়ান। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল। দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আরো দুই-তিন বছর থাকবে বলে এক বক্তব্যের জন্য মন্ত্রীদের তোপেও পড়তে হয়েছিল ডা. আজাদকে। পরে তিনি সেই বক্তব্য নিয়ে ‘বিভ্রান্তির’ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাজ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে আসছেন দেশের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা, যার দায় অধিদপ্তরে মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদের ওপর বর্তায়। তিনি নিজেও এর মধ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। গত মে মাসে তাকে সিএমএইচে চিকিত্সা নিতে হয়। সম্প্রতি বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় নেওয়া দুটি প্রকল্পেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বলা হচ্ছে, এ প্রকল্পে গগলস ও পিপিইর দাম বাজারমূল্যের কয়েক গুণ বেশি ধরা হয়েছে। এ ঘটনার পর গত মাসে প্রকল্পের পরিচালককে বদলি করে সরকার। মহামারির মধ্যে নানা অভিযোগ ওঠায় এর আগে স্বাস্থ্য সচিবসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তার ধারাবাহিকতায় এবার আবুল কালাম আজাদকে বিদায় নিতে হলো।