বন্যায় বাড়ছে নদনদীর পানি। বেড়েছে নদী ভাঙন। এই ভাঙনের ফলে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেল দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ক্ষতির মুখে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। নদীগর্ভে বিলীন হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চরাঞ্চলের বাতিঘর খ্যাত এসইএসডিপি মডেল উচ্চবিদ্যালয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৬টায় বিকট শব্দে বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে চলে যায়। এ সময় কয়েক শ লোক অসহায় দৃষ্টিতে ভবনটি নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার দৃশ্য অবলোকন করেন। এছাড়া নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা ২ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও সাইক্লোন সেল্টারও।
শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা জানান, ২০০৯ সালে শিবচর উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলবেষ্টিত বন্দরখোলা ইউনিয়নের নূরুদ্দিন মাদবরেরকান্দি এলাকায় স্থাপন করা হয় তিন তলা ভবন বিশিষ্ট এসইএসডিপি মডেল উচ্চবিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ে যখন পাঠদান শুরু হয়, তখন পদ্মা নদীর সীমানা ছিল প্রায় চার কিলোমিটার দূরে। চরাঞ্চলে স্থাপিত এ বিদ্যালয়ে শিবচরের বন্দরখোলা ইউনিয়নের মমিন উদ্দিন হাওলাদারকান্দি, জব্বার আলী মুন্সীকান্দি, বজলু মোড়লেরকান্দি, মিয়া আজম ব্যাপারীরকান্দি, রহমত হাজীরকান্দি, জয়েন উদ্দিন শেখকান্দি, মসত খাঁরকান্দিসহ প্রায় ২৪টি গ্রামের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করত। এ স্কুলে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সবাই চরের বাসিন্দা। গত বছর পদ্মা নদী ভাঙতে ভাঙতে পেছন দিক দিয়ে বিদ্যালয়টির কাছে চলে আসে। গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকিয়ে রেখেছিল। চলতি বর্ষা মৌসুমেও ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়। তবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রচণ্ড স্রোতের কারণে জিও ব্যাগ ফেলে তেমন সুবিধা করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে বৃহস্পতিবার বিকালে বিদ্যালয়টি পদ্মায় চলে যায়।
শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, চরের মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ভাঙনের ঝুঁকিতে ছিল। নানা প্রতিকূলতার কারণে এটি ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। এ বছর বন্যার পানি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় ও স্রোতের তীব্রতা বেশি থাকায় বিদ্যালয়টি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।
এদিকে চাঁদপুর প্রতিনিধি জানায়, নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে রাজরাজেশ্বর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সফিউল্লাহ সরকার জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তিন তলা বিশিষ্ট এই স্কুলভবনটি নদীতে তলিয়ে যায়। ভবন হারিয়ে বিদ্যালয়ের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর পড়ালেখা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। অচিরেই এই চরাঞ্চলের ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা বিস্তারে একটি ভাসমান বিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানান তিনি।
রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলী জানান, এই ভবনটির সাইট সিলেকশনের সময় নদী এখান থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে ছিল। গত দুই মাস আগে এটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ২ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন তলা বিশিষ্ট বিদ্যালয় ভবন কাম আশ্রয় কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ গত বছরের জানুয়ারি মাসে শুরু হয়। এর আগে বিদ্যালয়টি ১১ বার নদীভাঙনের শিকার হয়।
গত কয়েক দিনে উজান থেকে প্রবল বেগে পানি আসায় রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের চর এলাকায় মেঘনা ও পদ্মা নদীর মিলনস্থলে প্রচণ্ড ঢেউ এবং ঘূর্ণিস্রোতের সৃষ্টি হয়। যে কারণে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। এই বর্ষায় রাজরাজেশ্বর এলাকায় কয়েক শ বসতভিটা নদীভাঙনের শিকার হয়েছে।