রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) ভাইরোলজি বিভাগের করোনা ল্যাব থেকে ৫২ জনের নমুনা হারিয়ে গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে এসব নমুনা পরীক্ষার জন্য গত ১২ জুলাই পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু বুধবার পর্যন্ত ফল আসেনি। তবে গত ২০ জুলাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সায়েরা খান রামেক করোনা ল্যাবে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন নমুনাগুলো হারিয়ে গেছে।
এ ঘটনা জানার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমদ শিমুল সরাসরি রামেক ল্যাবে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি নমুনা হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনা সন্দেহভাজন বিবেচনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ গত ৮ ও ১১ জুলাই দুদিনে থানা পুলিশের একজন পরিদর্শকসহ আট পুলিশ সদস্য, এক ইউপি চেয়ারম্যান ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৫২ জনের নমুনা সংগ্রহ করেন। এসব নমুনা গত ১২ জুলাই পরীক্ষার জন্য রামেক আরটি পিসিআর ল্যাবে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু গত ৯ দিনেও ফল না পাওয়ায় গত ২০ জুলাই শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা ডা. সায়েরা খান নিজেই রামেক ল্যাবে যোগাযোগ করেন।
তাকে জানানো হয়, শিবগঞ্জের ৫২টি নমুনা পাওয়া যাচ্ছে না। এসব নমুনা সম্ভবত হারিয়ে গেছে। তবে ল্যাব সংশ্লিষ্টদের দাবি, শিবগঞ্জের ৫২টি নমুনা ইনভ্যালিড হয়েছে। এতোগুলো নমুনা কীভাবে বাতিল হতে পারে, বিষয়টি লিখিতভাবে জানাতে বলেন তিনি।
এদিকে ৫২টি নমুনা হারিয়ে যাওয়ায় পুনরায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নমুনা সংগ্রহ করে রামেক ল্যাবে পাঠাতে বলা হয়েছে রামেক ভাইরোলজি ল্যাবের পক্ষ থেকে। ফলে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।
এ সম্পর্কে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. সায়েরা খান বলেন, রামেক ল্যাব থেকে পুনরায় ওইসব ব্যক্তির নমুনা বিনামূল্যে সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠাতে বলা হয়েছে। কিন্তু যাদের নমুনা হারিয়েছে, তাদের সেভাবে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নমুনা দেয়ার পর ৯ দিন অপেক্ষার পর তারা নিজ নিজ পেশায় ও কাজে চলে গেছেন।
অন্যদিকে নমুনা হারানোর বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করেননি রামেক ভাইরোলজি বিভাগের ও ল্যাব প্রধান অধ্যাপক ডা. সাবেরা গুলনাহার। তিনি বলেন, শিবগঞ্জের ৫২ নমুনা ইনভ্যালিড হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আবারো নমুনা দিলে বিনামূল্যে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।
ইত্তেফাক/কেকে