আগেও জাতীয় ফুটবল দলের বিদেশি কোচ ছিলেন। হাই প্রোফাইল কোচ বাংলাদেশে এসেছিল। জার্মান কোচ অটো ফিস্টার, জার্মান কোচ হোলগার ওবারম্যান, সুইস কোচ অল্ডরিখ সোয়াবসহ অনেক কোচকেই বাংলাদেশের ফুটবলে দেখা গেছে। কিন্তু তারা জাতীয় দলের ফুটবলারদের পারিবারিক বিষয়টা কখনো জানতে চাইতেন এমন শোনা যায়নি। তখন অনুশীলন আর খেলা নিয়ে ভাবতেন কোচ। এবারই ব্যতিক্রম। বাংলাদেশ ফুটবল দলের বর্তমান ইংলিশ কোচ জেমি ডে ফুটবলারদের পারিবারিক বিষয়টিতেও নজর দিচ্ছেন। একজন খেলোয়াড় কীভাবে সে নিজেকে নিয়ে ভাবে, তার কী স্বপ্ন, তার মনোজগতে ফুটবল নিয়ে কী ভাবনা কাজ করে, ফুটবল খেলতে গিয়ে পারিবারিক সংকট কাজ করে কি না এসব নানা বিষয় জানতে চান কোচ। জেমির এমন পরিকল্পনায় খেলোয়াড়রা খুশিই হয়েছেন। কারণ কোচ তার খেলোয়াড়দের ভেতর থেকে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্সটা আদায় করতে চান।
জেমি দুই বছর বাংলাদেশ ফুটবল দলের দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু তখন এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখা যায়নি। এবার নতুন করে দুই বছর চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। মাঠে কাজ শুরু না হলেও ইংল্যান্ডে বসেই খেলোয়াড়দের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কাজ করছেন এবং কিছু জিনিস এগিয়ে রাখছেন। কোচ মনে করছেন পিছুটান থাকলে সে মাঠে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারবে না। ভালো কিছু আদায় করতে হলে মন এবং মানসিকতায় স্বতঃস্ফূর্ত থাকতে হবে, এমন বিশ্বাস জেমির। একাধিক ফুটবলার জানিয়েছেন খেলার সঙ্গে পারিবারিক বিষয়টাও সম্পৃক্ত। একজন খেলোয়াড়ের কোথাও দুর্বলতা থাকলে সেটি নিয়ে কাজ করতে চান জেমি। জাতীয় দলের গোলকিপার আশরাফুল রানা যেমন সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন তিনি কোচকে বলেছেন- ‘তার বাম পায়ে সমস্যা। ক্রসের বল আসলে সমস্যায় পড়ে যান রানা। আবার এটাও বলেছেন মিষ্টি খাবারের প্রতি তার দুর্বলতা রয়েছে।’ স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজ জীবন ক্লাব ফুটবলে দারুণ কিন্তু জাতীয় দলের জার্সিতে আত্মবিশ্বাস পান না। এই সমস্যা কাটাতে চান জীবন। আর স্বপ্নের কথা বলেছেন সাফের ট্রফি চান। জীবন সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন জাতীয় দলে অনেকেই আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভোগেন, আমার মনে হয় মনোবিদ রাখলে ভালো হয়।’ সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিকের ডিফেন্ডার তপু বর্মন জানিয়েছেন তার ফিটনেস ঘাটতির কথা। তপু বলেন,‘আমাদের অন্য ফুটবলাররা নিজেদের পারিবারিক অনেক বিষয়ও প্রকাশ করেছেন কোচের কাছে। পরিবার সম্পর্কে জানাতে বলেছেন। আমার কাছে মনে হচ্ছে আমাদের খেলোয়াড়দের সম্পর্কে কোচ আপাদমস্তক জানতে চেয়েছেন।’ খেলোয়াড়দের তথ্য পেয়ে বুঝার চেষ্টা করছেন ৪০ বছর বয়সি জেমি। খেলোয়াড়দের সমস্যাগুলো সমাধান করতে সব তথ্য নিয়েই মাঠের অনুশীলনে নামতে চান তিনি। জেমি মনে করছেন খেলার সঙ্গে পরিবারও একটা ব্যাপার। আর খেলোয়াড়দের কথা হচ্ছে ক্যাম্পে ট্রেনিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে কোচ ছুটি দিতেন পরিবারের সঙ্গে দেখা করা, খাওয়া-দাওয়া করার জন্য। এবার আরো বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন জেমি। তাই খেলোয়াড়দের পরিবারের অন্দরমহলেও প্রবেশ করতে চান। কোনো সমস্যা থাকলে সেটি নিরসন করার দাওয়াই দিতে চান জেমি। হতে পারে সেরা পারফরম্যান্স ও সেরা নির্যাসটুকু বের করতে জেমির নতুন কৌশল।