করোনা চিকিৎসায় প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেফতার রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমের প্রতারণা মামলাসহ দুই মামলার তদন্ত করছে র্যাব। গত ১৭ জুলাই সাতক্ষীরার দেবহাটা থেকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তভার পেয়েছে র্যাব। উত্তরায় সাহেদের বাসায় অভিযান চালিয়ে জাল টাকা উদ্ধারের ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলার তদন্তভার র্যাবে দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। এর আগে প্রতারণার মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের মধ্যে ৮ দিনের রিমান্ড শেষ হয়েছে।
এদিকে, সাহেদের আরেক সহযোগী তরিকুল ইসলাম ওরফে তারেক শিবলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শুক্রবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুন উর রশীদ তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এরপর তরিকুলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন তিনি। এর আগে গত ৯ জুলাই সকালে তরিকুলকে রাজধানীর নাখালপাড়া থেকে গ্রেফতার করে র্যাব। গত ১০ জুলাই পাঁচদিন এবং ১৬ জুলাই সাত দিনের জন্য তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
র্যাবের লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক লে.কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, প্রতারণার মামলায় সাহেদের ১০ দিনের রিমান্ডের মধ্যে ৬ দিন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে র্যাব সাহেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
অপরদিকে, গত ৯ দিনে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সাহেদের প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ভুক্তভোগীরা ১৫৩টি অভিযোগ করেছেন। এদের মধ্যে কয়েকটি অভিযোগ মামলা হিসাবে গ্রহণ করা হবে জানিয়েছে পুলিশ।
আরো পড়ুন : দূতাবাসে হাসিমুখে সেবা দেওয়ার নির্দেশনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
উল্লেখ্য, গত ৬ জুলাই র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পরীক্ষা ছাড়াই করোনার সনদ দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর ৭ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশে র্যাব রিজেন্ট হাসপাতাল ও তার মূল কার্যালয় সিলগালা করে দেয়। একইদিন উত্তরা পশ্চিম থানায় রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকে সাহেদ পলাতক ছিলেন। ১৭ জুলাই ভোরে সাতক্ষীরা থেকে সাহেদকে গ্রেফতার করা হয়।
ইত্তেফাক/ইউবি