সচেতনতা নিজের প্রয়োজনে এবং সততা অপরের প্রয়োজনে বেশি প্রয়োজন। মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাত-মুখ ধোয়া, স্যানিটাইজার ব্যবহার করা, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা ও রাখা, লোক সমাগম এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও পালন করা, অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়া, প্রয়োজনে বাইরে বের হলেও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা—এসব বিষয়ে সচেতনতা জরুরি। আমাদের দেশের অনেক মানুষই অসচেতন। স্বাস্থ্যবিধি পালনে তাদের অনীহা ও অবহেলা লক্ষণীয়। চায়ের দোকানে আড্ডা, অযথা ঘুরে বেড়ানো, বাইরে গেলেও মুখে মাস্ক ব্যবহার না করা। এ দেশের মানুষ আমরা বড়ই খামখেয়ালি, নিয়মবিরোধী, অনিয়মকেই নিয়ম বলে চালিয়ে দিই ও মানিয়ে নিই। গরমকালে করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হবে না, হতে পারবে না— কারণ গরমে করোনা ভাইরাস মারা যায়, যারা হারাম খাবার খায় ও সাপ-বাদুর খায় তাদেরই করোনা ভাইরাস হয়। যারা তা খায় না তাদের হয় না। যারা পরিশ্রম করে, তাদের ঘাম দিয়ে করোনা ভাইরাস বের হয়ে যায়। এমন আজগুবি, অবৈজ্ঞানিক ও উদ্ভট কথা ছড়িয়ে করোনা ভাইরাসের বিস্তার আরো বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে পরের সেবায় আমার সততা দরকার। আমার সততা দিয়ে অপরের জীবন রক্ষা করা সম্ভব। সততা থাকলে অপরের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ও সাহায্যদ্রব্য সুষ্ঠুভাবে বণ্টন হবে এবং গ্রহীতা ঠকবে না। সততার অভাব আছে বলেই দরিদ্র মানুষের অর্থ আত্মসাত্ হচ্ছে, চুরি হচ্ছে, খাটের নিচে তেল পাওয়া যাচ্ছে, দরিদ্রদের কম দেওয়া হচ্ছে, আবার অনেকেই পাচ্ছে না। সততা নেই বলে অসাধু ব্যবসায়ী, অর্থলোভী, স্বার্থপর, ক্ষমতাশালী লোক দরিদ্র-অসহায় লোকদের শোষণ করে অর্থ উপার্জন করছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী স্যানিটাইজার তৈরির নামে নকল ও ভেজাল স্যানিটাইজার, জীবানুনাশক ডেটল ও স্যাভলন তৈরি করে বাজারে ছাড়ছে—স্যাভলনের নাম হয়ে যাচ্ছে ‘স্যালভন’ যা লক্ষ করে না দেখলে বোঝার উপায় নেই। লঞ্চে-বাসে-ট্রেনে জীবাণু ধ্বংসের নামে লোকদেখানো রঙিন পানি ছিটানো হচ্ছে। কিছু অসাধু ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা না দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, রোগীদের হয়রানি করছে, করোনা ভাইরাসের নেগেটিভ সার্টিফিকেট তৈরি করে বিক্রি করছে।
বিশ্বের অনেক দেশে এই দুর্দিনে মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে, সেবা দিচ্ছে, নিয়ম নীতি মেনে চলছে, স্বাস্থ্যবিধি পালন করছে, ডাক্তার-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মী সবাই পরের সেবায় নিজেদের জীবন উত্সর্গ করছে। আর আমাদের দেশের একটি শ্রেণি কে কাকে মেরে খাবে, কার দুর্নাম করবে, কে কিভাবে মারা গেল, কিভাবে গুজব ছড়াবে, টাকা কামাবে, ত্রাণ দিয়ে ছবি তুলবে, আত্মপ্রচারের জন্য কাঁচা ধান কেটে দরিদ্রদের মারবে, কে কয়টা বিয়ে করল, কার কার ডিভোর্স হলো এসব নিয়ে মত্ত! এই দুর্দিন আমাদের সুযোগ দেয় এবং শিক্ষা দেয় যেন আমরা মানুষের পাশে দাঁড়াই, দরিদ্রদের প্রতি উদার হই, মানবতাবোধ জাগ্রত করি, সেবার হাত প্রসারিত করি।
ঢাকা