পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে এক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা নারীকে মারধর করার পর ঐ নারীর বিরুদ্ধে পুলিশ আরেক জনকে দিয়ে মামলা করিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মারধরের শিকার ঐ নারীর নাম শারমিন আফরোজ তুহিন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পশ্চিম কাফরুল এলাকার কেন্দ্রীয় মসজিদ গলিতে মারধরের শিকার ঐ নারী শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ হামলাকারীদের থানায় ডেকে আনে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা থানায় বসিয়ে রাখার পর দুই পক্ষ থেকে পুলিশ দুইটি মামলার অভিযোগ গ্রহণ করে। ঐ নারীর দায়ের করা মামলায় হামলাকারীদের মধ্যে ৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। হামলাকারীদের পক্ষ নিয়ে পুলিশ ঐ নারীর গৃহকর্মীর কথিত নানিকে থানায় ডেকে নিয়ে তাকে বাদী করে দায়ের করা মামলায় ঐ নারীর বিরুদ্ধে তার বাসার কিশোরী গৃহকর্মী লাকিকে ৫০ হাজার টাকা চুরির দায়ে মারধর ও নির্যাতন চালানো এবং গৃহকর্মীর নানির কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে গৃহকর্ত্রী শারমিন ১ লাখ টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগী শারমিন আফরোজ তুহিন বলেন, পশ্চিম কাফরুলের একটি বাড়িতে স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে তিনি ভাড়া থাকেন। ঐ বাড়ির পাশে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে তৈরি পোশাক বিক্রি করেন। গত ১ মার্চ দুপুরে তিনি একটি কাজে বাইরে যান। বাসায় ফিরে দেখেন গৃহকর্মী লাকির বাবা, মা ও গৃহকর্মীর কাজের সন্ধানদাতা হাসিনা বেগম এসেছেন। দুপুরের খাওয়ার পর তিনি আলমিরার কাচের দরজার লক ভাঙা দেখতে পান। ভেতরে রাখা ৫০ হাজার টাকা নেই। তিনি বিষয়টি শেরেবাংলা নগর থানায় ফোন করে জানান।
খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাকির বাবা, মা, লাকি ও হাসিনা বেগমকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের প্রায় তিন ঘণ্টা পর লাকির বাবা, মা ও হাসিনা বেগম ৫০ হাজার টাকা চুরি করার কথা স্বীকার করেন। সে অনুযায়ী টাকা উদ্ধারের জন্য তাদের রিকশায় করে এলাকার একটি বস্তিতে গেলে বস্তিবাসী শারমিনকে ঘিরে ফেলে। এক পর্যায়ে তিনি ওসির কাছে ফোন করে সহায়তা চাইলে পুলিশ এসে শারমিনকে উদ্ধার করে গাড়িতে তোলে। এ সময় উত্তেজিত বস্তিবাসী তাকে নামিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকে। ঐ অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ সেই অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় বলে তিনি জানান।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে তাকে মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার কথা লিখিতভাবে জানানো হলেও ওসি তা বাদ দিতে বলেন। পরে ঘটনার ঐ অংশটুকু বাদ দিয়ে হামলাকারী কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন। শেরেবাংলা নগর থানায় এই দুই অভিযোগ ৩ মার্চ পৃথক দুইটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে।
এ ব্যাপারে মামলা দুইটির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাহবুব হাসান বলেন, মামলা দুইটির মধ্যে শারমিনের বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় অন্তত চার-পাঁচ জন আসামি জামিনে রয়েছে। গৃহকর্মী লাকির নানির দায়ের করা মামলার একমাত্র আসামি শারমিনও জামিনে রয়েছেন। মামলা দুইটি তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত শেষে চার্জশিট দেওয়া হবে।