করোনার দোহাই দিয়ে অভিযুক্তকে বাঁচানোর চেষ্টার অভিযোগ

রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন প্রতিষ্ঠান যমুনা অয়েলের তেল পাচারের ঘটনার দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি না দিয়ে উলটো ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাজশাহীর রেলওয়ে ডিপো থেকে ৬ হাজার ৯২৫ লিটার ডিজেল পাচারের সময় গত ২৩ এপ্রিল ডিপো ইনচার্জ আমজাদ হোসেনসহ তিন জনকে রেলওয়ে পুলিশ আটক করে। পরে সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। কিন্তু করোনার দোহাই দিয়ে তেল চুরির ঘটনা তদন্তে কমিটি পর্যন্ত করেনি যমুনা কর্তৃপক্ষ।

তবে এ ঘটনায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটি প্রাথমিক তদন্তে যমুনার রাজশাহী ডিপো ইনচার্জ আমজাদ হোসেনকে তেল পাচারের হোতা হিসেবে চিহ্নিত করে। কিন্তু ঘটনার দুই মাস পার হলেও যমুনা কর্তৃপক্ষ কোনো তদন্ত কমিটি গঠন না করে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে যমুনা অয়েলের পার্সোনেল বিভাগের প্রধান ডিজিএম (এইচ আর) মাসুদ করিম ও পরিচালন বিভাগের প্রধান জিএম (অপারেশন্স) কাজী মনজুর রহমানের বিরুদ্ধে।

যমুনা অয়েলের এক সূত্রে জানা যায়, আমজাদ হোসেন এর আগেও ২০১৮ সালে যমুনা অয়েল কোম্পানির চিলমারী ডিপোর ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময়ে ২০ লাখ টাকার তেল পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত হন। বিষয়টি অডিট এবং তদন্তে প্রমাণিত হয়। কিন্তু রহস্যজনকভাবে আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে পুরস্কারমূলক বদলি করা হয়। তাকে প্রথমে বগুড়ার সেলস অফিসে পরবর্তীতে আরো বড় দায়িত্ব দিয়ে রাজশাহী ডিপোর ইনচার্জ করা হয়।

সূত্র জানায়, নিয়ম অনুযায়ী যে কোনো বদলি পদায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগের চাহিদা ও পরামর্শ বিবেচনায় নেওয়া হয়। আমজাদকে ডিপো ইনচার্জ হিসেবে বদলির ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। নিয়ম ভঙ্গ করে ডিজিএম (এইচ আর) মাসুদ করিম নিজেই প্রস্তাব দেন আবার নিজেই বদলির আদেশ ইস্যু করেন। এইচআর বিভাগের প্রধান হয়ে অন্য বিভাগের একজন কর্মকর্তার বদলির সুপারিশ নিজে করে আবার নিজেই বদলির আদেশ ইস্যু করার বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে করেন অনেকে। আবার এই বদলির আদেশ কোনো যাচাই-বাছাই না করে অভিযুক্ত (প্রমাণিত) ব্যক্তির বদলির অনুমোদন দেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াস উদ্দিন আনসারী।

কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াস উদ্দিন আনসারী বলেন, তেল পাচারের সত্যতা পাওয়ায় আমজাদ হোসেনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সে এখন কারাগারে। করোনা সংকট শেষ হলে আনুষ্ঠানিক তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে করোনার দোহাই দিয়েছেন কোম্পানির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মাসুদ করিমও। ২০১৮ সালের তেল চুরির ঘটনায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও আমজাদকে রাজশাহী ডিপো ইনচার্জ করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেখানে দায়িত্ব দেওয়ার মতো লোক ছিল না বলে তাকে (আমজাদ) ইনচার্জ করা হয়।