মনপুরা (ভোলা) সংবাদদাতা
মনপুরার মেঘনায় ইলিশ মৌসুমের মাঝামাঝি সময় শেষ হলেও জেলেদের জালে ইলিশের দেখা নেই। ভরা মৌসুমেও জেলেদের জালে ইলিশ ধরা না পড়ায় আড়তদার ও জেলে কারো মুখেই হাসি নেই। দুই-চারটা ছোট-বড় সাইজের ইলিশ জেলেদের জালে ধরা পড়ে। ইলিশ কম পাওয়ায় দাম অনেক বেশি।
সরেজমিনে হাজিরহাট ইউনিয়নের চরযতিন গ্রামের মেঘনা নদীর পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, জামাল মাঝি ও রহিম মাঝি মেঘনায় ইলিশ জাল ফেলে তিন-চারটি ছোট-বড় ইলিশ মাছ পেয়েছেন। তারা বলেন, সারাদিন মেঘনায় জাল ফেলে তিন-চারটা মাছ পেয়েছি। মাছ বিক্রি করে খরচই উঠছে না। ছেলেমেয়েদের কেমনে খাওয়ামু। উপজেলার হাজিরহাট ঘাটের আড়তদার নিজামউদ্দিন হাওলাদার বলেন, ইলিশ মৌসুমের শুরু থেকে মেঘনায় ইলিশ মাছ পাওয়ার কথা। তিন মাস অতিবাহিত হয়ে গেছে কিন্তু ইলিশের দেখা নেই। ৩ নম্বর উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন বলেন, গত বছর এই সময়ে প্রচুর ইলিশ পাওয়া গেছে। কিন্তু এ বছর এখনো ইলিশের তেমন একটা দেখা নেই।
বিষখালী নদীতে মিলছে না ইলিশ
রাজাপুর সংবাদদাতা জানান, জ্যৈষ্ঠ মাস থেকেই ইলিশের ভরা মৌসুম। কিন্তু জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় পেরিয়ে শ্রাবণেও ঝালকাঠি জেলার রাজাপুরের বিষখালী নদীতে দেখা মিলছে না ইলিশের। বাজারে ভোজন রসিকদের চোখ ইলিশের ডালির দিকে। অন্যান্য বছর এই সময়ে এলাকার মাছের বাজার রুপালি ইলিশে ভরা থাকলেও এবার ঠিক উলটো। মাছ শিকারের আশায় প্রতিদিন জেলেরা জাল, ট্রলার ও নৌকাসহ মাছ ধরার অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে নেমে পড়েন বিষখালী নদীতে। কিন্তু ইলিশ না পেয়ে হতাশ তারা। ইলিশের মৌসুমেও ইলিশ ধরতে না পারায় স্বাভাবিক কারণেই কষ্টে আছেন জেলেরা।
এ ব্যাপারে রাজাপুরের উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা আবুল বাসার বলেন, গত বছরও একই রকম পরিস্থিতি ছিল। ভরা মৌসুমেও মাছের সংকট ছিল। পরে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ে জেলেদের জালে। আশা করি সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর যে ইলিশ মাছ পাওয়া যাবে তা দিয়েই আমাদের চলতি অর্থবছরের চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে।