রপ্তানি পোশাকের দাম কমেছে গড়ে ১৪ শতাংশ

ইত্তেফাক রিপোর্ট

করোনার ধাক্কা সামলে রপ্তানি আদেশ বাড়তে শুরু করলেও পোশাকের দাম কমতির দিকে বলে জানিয়েছে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। সংগঠনটি সদস্যভুক্ত ১০০টি কারখানার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, পোশাকের দাম কমেছে গড়ে ১৪ শতাংশ। ১১ ধরনের পোশাক পণ্যের দাম যাচাই করে এ বিশ্লেষণ তৈরি করা হয়। অন্যদিকে সংগঠনটি জানিয়েছে, চলতি মাসে কারখানাগুলো গড়ে সক্ষমতার ৫৬ শতাংশ কাজ করেছে। আর আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত রপ্তানির আদেশের চিত্র পর্যবেক্ষণ করে জানিয়েছে, ক্রয়াদেশ এসেছে কারখানাগুলোর সক্ষমতার গড়ে ৩৫ শতাংশ। অর্থাত্ সক্ষমতার ৬৫ শতাংশ এখন পর্যন্ত রপ্তানি আদেশ আসেনি।

গত শুক্রবার রাতে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে কোন্ কারখানার ওপর এই জরিপকাজ চালিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ইত্তেফাকের সঙ্গে আলোচনায় একাধিক গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আরো অনেক বেশি পরিমাণ রপ্তানি আদেশ রয়েছে বলে জানিয়েছেন। তবে পোশাকের দাম কমে যাওয়ার বিষয়টি বলেছেন প্রায় সবাই। এর পেছনে মূলত ক্রয়াদেশ কম আসায় প্রতিষ্ঠানের লোকসান কমাতে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে অর্ডার নেওয়ার প্রবণতাকে দায়ী করেছেন তারা।

বিজিএমইএর হিসেব অনুযায়ী, চলতি জুলাই থেকে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে যেসব গার্মেন্টস পণ্যের ক্রয়াদেশ পাওয়া গেছে, গড়ে সেসব পণ্যের দাম ৪ ডলার ৪০ সেন্ট। অথচ এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসব পণ্যের দাম পাওয়া গিয়েছিল গড়ে ৫ ডলার ১২ সেন্ট করে। সেই হিসেবে দাম কমেছে গড়ে ১৪ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি দাম কমার তালিকায় রয়েছে বাচ্চাদের পোশাক, পুরুষের অন্তর্বাস এবং টি-শার্ট ও পোলো শার্ট জাতীয় পোশাকের।

অন্যদিকে বিজিএমইএর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আগামী মাসে রপ্তানি আদেশ রয়েছে কারখানার সক্ষমতার গড়ে ৪৮ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে ৩৮ শতাংশ, অক্টোবরে ৩০ শতাংশ, নভেম্বরে ২১ ও ডিসেম্বরে ১৭ শতাংশ। বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি পণ্য ক্রয়কারী ইউরোপের ব্র্যান্ড এইচ অ্যান্ড এমের ঢাকা অফিসের প্রধান জিয়াউর রহমান ক্রয়াদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্প্রতি ইত্তেফাককে বলেন, করোনা আসার পর অর্ডারের ধরন পরিবর্তন হয়ে গেছে। আগে এক সঙ্গে অনেক পণ্যের ক্রয়াদেশ দেওয়া হতো। এখন তা ভেঙে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। ফলে এখনই নিশ্চিত হওয়া যাবে না, আগামী দুই কিংবা তিন মাসে কেমন রপ্তানি আদেশ আসবে।

রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের মজুরি দেওয়ার জন্য সরকার শুরুতে নামমাত্র সুদে ৫ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দিয়েছে। পরবর্তী সময় এটি বেড়ে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। ৮৪ শতাংশ রপ্তানিকারক হিসেবে এই সুবিধার বেশির ভাগই পেয়েছে তৈরি পোশাক শিল্পখাত।