কোভিড ও বন্যায় বিলম্বিত হতে পারে এসডিজির লক্ষ্য অর্জন

কোভিড-১৯ মহামারি ও বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে সামগ্রিক টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়ন কার্যক্রম কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে। এমন মতামত উঠে এসেছে পিকেএসএফ আয়োজিত ওয়েবিনারে। পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই ওয়েবিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এতে আরো বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক জুয়েনা আজিজ, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম প্রমুখ।

ওয়েবিনারে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশন নেটওয়ার্ক কর্তৃক প্রণীত ‘টেকসই উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২০’-এ বাংলাদেশের মূল্যায়ন ও এসডিজি বাস্তবায়নে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়েছে, এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে সঠিক পথেই রয়েছে। ১৯৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৯তম। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের পরই রয়েছে ভারত। দেশটির অবস্থান ১১৭তম, পাকিস্তানের অবস্থান ১২৪তম এবং আফগানিস্তানের অবস্থান ১৩৯তম। তবে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ভুটান ৯১তম, মালদ্বীপ ৯৪তম এবং নেপাল ৯৬তম। সূচকভিত্তিক বাংলাদেশের অগ্রগতি মূল্যায়নে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দারিদ্র্য নিরসনে বাংলাদেশ সঠিক পথেই রয়েছে। তবে, অতি দারিদ্র্য নিরসনে সফলতার হার কম। ক্ষুধা মুক্তির সূচকগুলোতে দেখা যায়, তিনটি সূচকে বাংলাদেশ ভালো করলেও দুইটিতে স্থিতাবস্থায় ও দুইটিতে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণের সূচকগুলোর         মধ্যে দুইটি সূচকে ভালো করেছে কিন্তু ১১টি সূচকেই চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান রয়েছে। গুণগত শিক্ষায় স্থিতাবস্থা রয়েছে। লৈঙ্গিক সমতা অর্জনে এখনো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এভাবে মূল্যায়িত মোট ৮৫টি সূচকের মধ্যে দেখা যায়, বাংলাদেশ এরই মধ্যে ২৬টি সূচকে লক্ষ্য অর্জন করেছে, ১৭টি সূচক অর্জনে খুবই কম প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, ১৬টি সূচকে কিছুটা চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং ২৪টি সূচকে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। টেকসই অভীষ্ট ৯ ও ১৭-তে তথ্যের ঘাটতি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে কিছুটা বাধাগ্রস্ত করছে। তবে সরকার এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় যথাযথ পরিকল্পনা ও কার্যক্রম হাতে নিচ্ছে। জুয়েনা আজিজ বলেন, সূচকে আমরা এগিয়েছি, অবস্থান ভালো হয়েছে। অসমতা হ্রাসের ক্ষেত্রে আমাদের ডাটা নেই। এই সূচক পরিমাপের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সময় লেগেছে। ড. শামসুল আলম বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে সরকার যথেষ্ট আন্তরিক। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এসডিজির আলোকে সাজানো হয়েছে। করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, আমরা পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এগিয়ে যাব।