অবশেষে লোভাছড়ার জব্দকৃত পাথর সাড়ে ৩০ কোটি টাকায় নিলামে

সিলেটের সীমান্তবর্তী কানাইঘাট লোভাছড়া পাথর কোয়ারির দুই পাড়ে জব্দকৃত পাথর অবশেষে সাড়ে ৩০ কোটি টাকায় নিলামে বিক্রয় হয়েছে। এই পাথর নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় পাথর ব্যবসায়ীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। স্থানীয় পাথর ব্যবসায়ীদের দাবি এই পাথর তারা গত শুষ্ক মৌসুমে জনৈক ইজারাদারের নিকট থেকে কিনে মজুত করেছেন ব্যবসার উদ্দেশে। আর পরিবেশ অধিদপ্তর মনে করে এই পাথর অবৈধভাবে উত্তোলন করা হয়েছে যা পরিবেশের জন্য ক্ষতির কারণ হয়েছে। এ অবস্থায় এই পাথর নিলাম বিক্রি করে টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। এ নিয়ে কয়েক দিন এলাকায় বেশ জটিল পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। অবশেষে পরিবেশ অধিদপ্তর তা নিলাম করতে সক্ষম হয়।

এদিকে নিলামের ঐ পাথর চোরাই পথে পাচারে তত্পর হয়ে ওঠে একটি চক্র। আর সেই চোর ঠেকাতে পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে কোয়ারি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬৭টি বাল্কহেড জাহাজের ইঞ্জিন ও ছয়টি পাথর ভাঙার ক্রাশার মেশিন বেল্ট কাটাসহ প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি ধ্বংস করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বারিউল করিম খান বলেন, লোভাছড়া কোয়ারি এলাকায় মজুতকৃত সকল পাথর পূর্বে জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পাথর নিলামে বিক্রি করার পর প্রশাসনের নজরদারি ছিল কোয়ারি এলাকায়। শুক্রবার ঐ পাথর নৌপথে পরিবহনের চেষ্টাকালে ৬৭টি বাল্কহেড জাহাজের ইঞ্জিন ও ছয়টি পাথর ভাঙার ক্রাশার মেশিনের বেল্ট কেটে ফেলা হয়। এদিকে ঐ টেন্ডার       প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে পাথর ব্যবসায়ীরা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলসহ নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করে বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করেন। তার পরও মজুতকৃত পাথর নিলামে বিক্রির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিবেশ অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার নিলামে ৩০ কোটি ৫২ হাজার টাকার সর্বোচ্চ দরদাতা মেসার্স সামী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সিলেটের দক্ষিণ সুরমার গোটাটিকর এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলামকে পাথর বুঝিয়ে দেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।