২ হাজার কোটি টাকা অর্থ পাচারের মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন ওরফে বরকত ও তার ভাই ফরিদপুর প্রেসক্লাবের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান ওরফে রুবেল। দুই দফায় পাঁচ দিন রিমান্ড শেষে গত শুক্রবার বিকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে তারা অর্থ পাচারের সঙ্গে নিজেদের জড়িয়ে এ জবানবন্দি দেন। ঢাকা মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলাম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ঐ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি শেষে সন্ধ্যায় আদালতের নির্দেশে তাদের কেরানীগঞ্জ জেলহাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
সিআইডি ও আদালত সূত্র বলছে, অর্থ পাচারের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করে জবানবন্দি দিয়েছেন দুই সহোদর রুবেল ও বরকত। জবানবন্দিতে তারা ঐ অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত অনেক রাঘববোয়ালের নাম বলেছেন। জবানবন্দিতে যাদের নাম এসেছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে সিআইডি সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া বরকত ও রুবেলের উত্থানের পেছনে কারা সহযোগিতা করেছেন তারও সবিস্তারে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন তারা।
প্রসঙ্গত ২ হাজার কোটি টাকা অর্থ পাচারের অভিযোগে গত ২৬ জুন রুবেল ও বরকতের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করে সিআইডি। সিআইডির পরিদর্শক এস এম মিরাজ আল মাহমুদ বাদী হয়ে ঢাকার কাফরুল থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ঐ দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ২ হাজার কোটি টাকার সম্পদ অবৈধ উপায়ে উপার্জন ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়। মামলাটি তদন্ত করছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন সিআইডির (পশ্চিম) সহকারী পুলিশ সুপার উত্তম কুমার বিশ্বাস। তিনি জানান, রুবেল ও বরকত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ‘যাদের আশ্রয়, প্রশ্রয়ে থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন তাদের সবার নাম উল্লেখ করেছেন।
গত ১৬ মে রাতে ফরিদপুর জেলা আ. লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়িতে হামলা মামলার আসামি হিসেবে ৭ জুন পুলিশ বরকত ও রুবেলসহ মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করে।