পড়াশোনার পাশাপাশি শৌখিন কাজ করেন। তাতে পড়াশোনার ক্ষতি হয় না মোটেও। শৌখিন কাজে তারা সফলতা পেয়েছেন। জুটেছে অনেক পুরস্কারও। এমন একজন ছাত্রীর সফলতা নিয়ে লিখেছেন— মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
মায়ীশা তাহসিন। পড়াশোনা আহ্ছানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগে প্রথম বর্ষ, দ্বিতীয় সেমিস্টারে। পড়াশোনার পাশাপাশি ছবি আঁকে। গান গায়। ক্রাফটিং ও কবিতা আবৃত্তি করাটাও তার পছন্দ। গ্রামের বাড়ি রংপুর। ইউটিউবে একটি চ্যানেল ও একটি ফেসবুক পেজ আছে। সেখানে আঁকা ছবি, আঁকার টিউটোরিয়াল, কভার করা গানগুলো, আবৃত্তি করা কবিতাগুলো দিয়ে থাকে। এ উদ্দেশ্যে বন্ধুদের উত্সাহ, নিজের কাজগুলো দেখিয়ে অন্যকে ও নিজেকে আনন্দ দেওয়া, খুদে শিল্পীদের উত্সাহ দেওয়া ইত্যাদি। ব্ল্যাক টাই প্রোডাকশনের রিভারি নামক এক্সিবিশনে তার দুটি ছবি স্থান পায়। এছাড়া অবস্কিওর আর্টিস্টস অব বাংলাদেশ থেকে আর্ট ভার্সেস আর্টিস্ট চ্যালেঞ্জে একটি সার্টিফিকেট পেয়েছে, অরিজিনেটিভ ৩৬০ ডিগ্রি টিমের অনলাইন কম্পিটিশনে সব মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ১০০ প্রতিযোগীর মধ্যে গানে চতুর্থ, আর্টে তৃতীয়, আবৃত্তিতে দ্বিতীয় হয়েছে, ডিফেন্ডারস অব বাংলাদেশ টিমের অনলাইন কম্পিটিশনে ১ হাজার প্রতিযোগীর মধ্যে ষষ্ঠ হয়েছে। শখের কাজ করলে পড়াশোনার কোনো ক্ষতি হয় না। বরং মন ভালো থাকে। সময় ভালো কাটে। তার সবচেয়ে জনপ্রিয় কাজটি হচ্ছে ‘একটি পূর্ণ সকাল’ শীর্ষক পেন্সিল রং দিয়ে কাগজের ওপর হাতে আঁকা একটি ছবি। একটি সত্যিকারের চায়ের কাপ, বিস্কুট ও খবরের কাগজের ফটোগ্রাফি দেখে দেখে ছবিটি আঁকা। তার কাছের মানুষেরা প্রায় সবাই-ই যতবার ছবিটি দেখেছে, বিস্ময়ের সঙ্গে বলেছে যে এটাই আঁকা শ্রেষ্ঠ ছবি! যারা শৌখিন কাজ করতে চায়— তাদের বলব, শখ একান্ত নিজের ব্যক্তিগত একটা বিষয়। যেটা তোমাকে আনন্দ দেয়— তোমাকে ভালো রাখে। তোমার কাজ যেমন-ই হোক, তোমাকে আনন্দ দিলে কখনো সেটা ছাড়বে না। মানুষের জীবনে শখ বেঁচে থাকলে মানুষ সহজে হতাশাগ্রস্ত হয় না। তাই শখ অনেক দামি।