রকিবুল ইসলাম
দেশ একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। গত এপ্রিলে আঘাত হানে ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উপকূলীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষকে সময়মতো আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ায় প্রাণহানি কম হলেও ফসলসহ বেশ কিছু বাঁধ, বেড়িবাঁধ ভেঙে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে উপকূলীয় এলাকার মানুষ। সেসব অবকাঠামোর সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ শেষ না হতেই এখন দেশের বেশির ভাগ অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এ যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা। এরই মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জনপদ ও ফসলের মাঠ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। দেশের প্রায় সব নদনদীর পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং তা বেড়ে চলেছে। রাজধানীসহ এ অঞ্চলে বড় বন্যার পূর্বাভাস আগেই দিয়েছিল বন্যা-পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এখন পর্যন্ত দেশের ৩৩ জেলা পানিবন্দি। সেই সঙ্গে সারা দেশে বন্যাপরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। যার ফলে মানবেতর জীবন যাপন করছে লক্ষাধিক পরিবার। নদীর পানির অব্যাহত চাপে হুমকির মুখে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো। পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় অনেক স্থানে বন্যার্তরা বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা, পদ্মাসহ বিভিন্ন নদনদীর অব্যাহত পানি বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন জেলার চরাঞ্চলের লক্ষাধিক পরিবার চরম দুর্গতিতে পড়েছে। প্রবল বন্যার সঙ্গে কোথাও কোথাও যোগ হয়েছে ব্যাপক নদীভাঙন। দিশাহারা হয়ে পড়েছে কয়েক লাখ পানিবন্দি মানুষ। বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে রাস্তা কিংবা বাঁধের ধারে। গবাদিপশু আর মানুষের সহাবস্থান দেখা যাচ্ছে সর্বত্র। দরিদ্র অসহায় মানুষের জীবিকা বন্ধ হয়ে গেছে। আবার অনেকের গোলায় ধান-চাল আছে। রান্না করার সুযোগ নেই, বাড়িঘরে অথই পানি। খেতে পারছে না। না খেয়ে দিন অতিবাহিত করছে তারা। বিশুদ্ধ পানির অভাবে পান করতে হচ্ছে বন্যার দূষিত পানি। পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে অনেক অঞ্চলে। এজন্য বন্যার্তদের মাঝে চলছে ত্রাণের জন্য হাহাকার। শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির বিশেষ প্রয়োজন। বন্যার্তরা বিশুদ্ধ পানি, জ্বালানি, গোখাদ্য ও ওষুধপত্রের সংকটে পড়েছে। সরকারিভাবে অনেক এলাকায় ত্রাণসহায়তা প্রদান করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বন্যার্ত অসহায় মানুষ ত্রাণের আশায় তাকিয়ে রয়েছে। সরকারি ত্রাণের পাশাপাশি ব্যক্তি/বেসরকারি সাহায্য সংস্থাগুলোর এগিয়ে আসা জরুরি।
দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের দীর্ঘ ঐতিহ্য, দক্ষতা ও সক্ষমতা সম্পর্কে বহির্বিশ্বে সুখ্যাতি রয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল, করোনা মহামারির কারণে তা ক্ষতির সম্মুখীন না হলে বন্যা মোকাবিলা করাটা কঠিন কিছু ছিল না। দুঃখের বিষয়, এই করোনার সময়েও একশ্রেণির মানুষ দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি ত্রাণ ও প্রণোদনার অর্থ লুটপাট করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারির কারণে তা কমেছে। স্বাস্থ্য খাতের কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির বিষয়টি এখন বহুল আলোচিত। অর্থের এই লুটপাট ও অপচয় না হলে বন্যা মোকাবিলায় তা ব্যয় করা যেত। আসুন আমরা লুটপাট ও অপচয় না করে বানভাসিদের পাশে দাঁড়াই।
n লেখক :শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়