দুর্নীতির বিষবৃক্ষের মূলোত্পাটন করা হোক

নমুনা পরীক্ষার ল্যাব, হাসপাতালে আইসিইউ, সিসিইউ, অক্সিজেন, চিকিত্সক এবং স্বাস্থ্যকর্মী ইত্যাদির সীমাবদ্ধতায় সরকার ও সংশ্লিষ্টরা প্রতিষেধকহীন করোনার সঙ্গে প্রাণপণ যুদ্ধে ব্যস্ত হলেও প্রায় সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক নীরবই ছিল। পরবর্তী সময়ে নমুনা পরীক্ষার জন্য সরকার নির্ধারিত ফি-র অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও ভুয়া রিপোর্ট প্রদানের মতো মারাত্মক সব অপরাধ ও জালিয়াতিতে জড়িয়ে পড়ে কতিপয় হাসপাতাল ও ব্যক্তি দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে। কেএন-৯৫ মাস্কের নামে নিম্নমানের মাস্ক সরবরাহ দিয়ে শুরু হলেও সাহেদ-সাবরিনাদের কুকীর্তির মাধ্যমে পূরণ হলো দুর্নীতির ষোলো কলা। প্রতারকরা পথভ্রষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভাগের কতিপয় দুর্নীতিপরায়ণ লোকের মদদ পেয়েছে। জনগণের করের হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও প্রত্যাশিত সুফল না পাওয়ার অন্যতম কারণ দুর্নীতি। গুটিকয়েক দুর্নীতিবাজকে শাস্তি দেওয়া বিষবৃক্ষের কয়েকটা ডাল ছেঁটে ফেলার মতোই। সাহেদদের মতো বিচ্ছিন্ন ডালগুলোকে পুষ্ট হওয়ার রসদ  জোগানদাতাদের মুখোশ উন্মোচন করে বিষবৃক্ষের মূলোত্পাটন করতে হবে। প্রতারকদের জঘন্য সব কাজ সরকারের মহতি কাজগুলোকেই শুধু ম্লান করেনি, বহির্বিশ্বে দেশের সুনামকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। প্রবাসীরাও পড়েছেন অপ্রত্যাশিত চাপে। স্বাস্থ্যখাতকে বিষমুক্ত করতে নেপথ্যের খলনায়কদের আইনের আওতায় আনা উচিত। সাহেদদের মতো জঘন্য পাপীদের আঁতুড়ঘরকে নিশ্চিহ্ন করতে না পারলে ভিক্ষুক নাজিমউদ্দিন, চিকিত্সক মঈনউদ্দীনসহ অন্য সবার অমূল্য ত্যাগের ছবি সহসা বিবর্ণ হয়ে যাবে।

আবু ফারুক

সহকারী শিক্ষক, ভাগ্যকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সদর, বান্দরবান