সিলেট অফিস ও দক্ষিণ সুরমা সংবাদদাতা
সিলেটের জকিগঞ্জ-বিয়ানীবাজার সার্কেলে পুলিশি তত্পরতায় অপরাধপ্রবণতা কমেছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলের নির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানা গেছে। এতে দুই উপজেলার মানুষ স্বস্তিতে রয়েছেন। এলাকার অনেকেই বলেছেন ইদানীং মনে হচ্ছে পুলিশ জনগণের বন্ধু। এখানেই শেষ নয়, বৈশ্বিক করোনা ভাইরাসের সময়ও জনগণকে সচেতন করতে পুলিশ ভূমিকা পালন করছে। আর এর পেছনের নেপথ্য কারিগর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়ের আন্তরিকতা।
এলাকাবাসী জানান, জকিগঞ্জ-বিয়ানীবাজার সার্কেলে ২০১৮ সালের শেষের দিকে ঐ পুলিশ কর্মকর্তা যোগদানের পর সংশ্লিষ্ট থানার বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলাসহ গণ-ধর্ষণ, অপহরণ, শিশু ধর্ষণ, ডাকাতির মতো ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটিত হয়। স্বীকৃতিস্বরূপ ১০ বার সিলেট জেলা পুলিশের শ্রেষ্ঠ সার্কেল কর্মকর্তা হিসেবে মনোনীত হন সুদীপ্ত।
এক বছর আগে বিয়ানীবাজারের ব্যবসায়ী কামাল হোসেনের (৪০) হত্যাকারীদের গ্রেফতার করেন। পরে আসামিদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ড্রামের ভেতর থেকে কামালের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। ঐ ব্যবসায়ীর মোবাইলের আইএমইআই নম্বরের সূত্র ধরে পাঁচ আসামিকে ধরা হয়।
শিকারপুর গ্রামের আব্দুল মন্নানের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় এমাদ উদ্দিন নামের এক ডাকাতকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত মোট আট ডাকাতকে গ্রেফতার করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়। এদিকে শিশু সায়েল আহমদ ওরফে সোহেল আপন চাচির অবৈধ কার্যকলাপ দেখে ফেলায় তাকে চাচি হত্যা করে কম্বলের ভেতরে পেঁচিয়ে বাথরুমের ড্রামে লাশ গুম করা হয়। এই রহস্যও উদ্ঘাটন করেন সুদীপ্ত রায়। ছেলে ও ছেলের বউদের নির্যাতনের শিকার এক বৃদ্ধাকে ভরণ-পোষণের জন্য ছেলেদের বাধ্য করেন। মল্লিক গ্রামের এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে একঘরে করে দেওয়ার খবর পেয়ে ঐ পুলিশ কর্মকর্তা প্রভাবশালী তিন জনকে গ্রেফতার এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। প্রেমিকার বাবাকে হত্যার ঘটনায় আসামিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সদস্যদের জেলে সাজিয়ে জকিগঞ্জের কচুকলি হাওরে ডাকাত দলকে গ্রেফতার করা হয় তার নেতৃত্বে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায় বলেন, অপরাধ দমনে জকিগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ সর্বদা তত্পর। তিনি জানান, সম্মিলত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করা সম্ভব।